মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন মিন অং হ্লাইং
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪৭
মিন অং হ্লাইং
মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং।
শুক্রবার রাজধানী নেপিডোতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের
মাধ্যমে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত
করে ক্ষমতা দখলের পর এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নিজের শাসনকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিলেন ৬৯
বছর বয়সী এই জেনারেল।
শপথ গ্রহণ শেষে দেওয়া ভাষণে মিন অং হ্লাইং
দাবি করেন, "মিয়ানমার পুনরায় গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে এবং একটি উন্নত ভবিষ্যতের
দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।" তবে দেশটিতে চলমান গৃহযুদ্ধ ও নানামুখী সংকটের কথা স্বীকার
করে তিনি বলেন, এখনও অনেক ‘চ্যালেঞ্জ’ জয় করা বাকি।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর
জোট ‘আসিয়ান’-এর সঙ্গে স্বাভাবিক
সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে তার সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। উল্লেখ্য, অভ্যুত্থান পরবর্তী
দমন-পীড়নের কারণে আসিয়ান থেকে মিয়ানমারকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত
একটি একতরফা নির্বাচনের পর পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ জয় পায় সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি
অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (ইউএসডিপি)। সেই পার্লামেন্টেই গত সপ্তাহে
ভোটাভুটির মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক
এবং পশ্চিমা দেশগুলো এই নির্বাচনকে একটি ‘প্রহসন’ ও ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত
করেছে।
শুক্রবার শপথ অনুষ্ঠানে চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ
প্রায় ২০টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনে কারচুপি এবং দেশের বড় একটি
অংশে ভোট গ্রহণ না হওয়ায় এই নতুন সরকারের বৈধতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলছে মানবাধিকার
সংস্থাগুলো।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিলেও মিয়ানমারের
সংকট কাটছে না। দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ও জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলো এখনো সামরিক
বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল কনফ্লিক্ট মনিটর -এর তথ্য
অনুযায়ী, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে সংঘাতের ফলে ৯৬ হাজারেরও
বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ৩৬ লাখ মানুষ।
বিরোধীদের শান্ত করতে মিন অং হ্লাইং রাজনৈতিক
বন্দীদের মুক্তি এবং অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে ফেরার জন্য
‘সাধারণ ক্ষমা’র ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে গণতন্ত্রপন্থীরা এই ঘোষণাকে কেবল ‘লোক দেখানো’ এবং ক্ষমতা পাকাপোক্ত
করার কৌশল হিসেবে দেখছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইংয়ের এই যাত্রা মিয়ানমারের
গৃহযুদ্ধ জর্জরিত পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আনতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

