Logo

আন্তর্জাতিক

এপস্টাইনের সাথে সম্পর্ক অস্বীকার করেলেন মেলানিয়া

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪৯

এপস্টাইনের সাথে সম্পর্ক অস্বীকার করেলেন মেলানিয়া

মেলানিয়া ট্রাম্প

সাবেক মার্কিন অর্থদাতা জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক আকস্মিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তাকে নিয়ে ছড়ানো এসব গুজব আজই বন্ধ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে এপস্টাইনের যৌন পাচারের শিকার হওয়া নারীদের সত্য প্রকাশের সুযোগ দিতে মার্কিন কংগ্রেসে গণশুনানির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

গুজব বনাম বাস্তবতা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছিল যে, জেফরি এপস্টাইনই মেলানিয়াকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এই দাবিকে চরিত্র হননের হীন চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে ফার্স্ট লেডি বলেন, ২০০০ সালের দিকে এপস্টাইনের সঙ্গে তার কেবল সংক্ষিপ্ত পরিচয় বা পথচলা হয়েছিল, এর বাইরে কোনো গভীর সম্পর্ক ছিল না।

তিনি আরও বলেন, "এপস্টাইনের এই অপকর্ম সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। আমি কোনোভাবেই এসবের অংশ ছিলাম না।" এমনকি এপস্টাইনের কারাবন্দী সহযোগী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দাবিও তিনি নাকচ করে দেন। ২০০২ সালের একটি ইমেইল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটি ছিল কেবলই একটি ভদ্রতাসূচক আনুষ্ঠানিক উত্তর

কংগ্রেসীয় শুনানির আহ্বান যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, "প্রতিটি নারীর অধিকার আছে জনসম্মুখে নিজের কথা বলার। কংগ্রেসের উচিত তাদের শপথপূর্বক সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। তবেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।"

তার এই অভাবনীয় প্রস্তাবের পর ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়া দ্রুত সাড়া দিয়ে বলেন, "আমরা মেলানিয়া ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত। রিপাবলিকান কমিটির চেয়ারম্যানের উচিত অবিলম্বে এই গণশুনানির ব্যবস্থা করা।"

ভিন্নমত ও সমালোচনা মেলানিয়ার এই পদক্ষেপকে কেউ সাহসী বললেও এপস্টাইনের অনেক ভুক্তভোগী একে সন্দেহের চোখে দেখছেন। লিসা ফিলিপস নামে এক ভুক্তভোগী প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কি কেবলই রাজনৈতিক নাটক নাকি তিনি সত্যিই সাহায্য করতে চান? অন্যদিকে, ভার্জিনিয়া জুফ্রে-এর পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের বারবার সাক্ষ্য দিতে বলা ন্যায়বিচার নয়, বরং দায় এড়ানোর কৌশল। তারা অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখনও এপস্টাইন সংক্রান্ত সব ফাইল প্রকাশ করেনি।

আইনি লড়াই উল্লেখ্য, এপস্টাইনের সঙ্গে মেলানিয়া ট্রাম্পের নাম জড়িয়ে যারা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন ফার্স্ট লেডি। ব্রিটিশ প্রকাশনা সংস্থা হার্পার কলিন্স এবং ডেইলি বিস্ট তাদের প্রকাশিত তথ্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছে এবং ভুল তথ্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বর্তমানে লেখক মাইকেল উলফের সঙ্গে তার ১ বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা চলছে।

প্রেক্ষাপট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় এপস্টাইনকে চমৎকার লোক হিসেবে অভিহিত করলেও পরে তাকে তার ক্লাব মার-এ-লাগো থেকে বহিষ্কার করেন এবং তাকে বিপজ্জনক বা ক্রিপ বলে আখ্যা দেন। এপস্টাইন ফাইলে ট্রাম্পের নাম বারবার আসলেও সরাসরি কোনো অপরাধের প্রমাণ মেলেনি। হোয়াইট হাউসে মেলানিয়া ট্রাম্পের এই বিরল উপস্থিতি এবং সরাসরি বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন