ভারতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বয়লার বিস্ফোরণ: নিহত ১৯
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১৫
বেদান্ত লিমিটেড -এর বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনা পর পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের সাকতি জেলায় একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে জেলার সিংহিতরাই গ্রামে অবস্থিত 'বেদান্ত লিমিটেড'-এর বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে আহত আরও ১৭ জন বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, মঙ্গলবার
দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটের বয়লারের একটি পাইপ ফেটে
উচ্চচাপের 'সুপারহিটেড স্টিম' বা অতি-উত্তপ্ত বাষ্প চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাকালে
অনেক শ্রমিক সেখানে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। বাষ্পের প্রচণ্ড উত্তাপে মুহূর্তের মধ্যে
শ্রমিকরা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। সে সময় পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং শ্রমিকদের
মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সাকতি জেলার পুলিশ সুপার প্রফুল্ল ঠাকুর
বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, "এ পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আহত ১৭ জনকে রায়গড় ও সাকতির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।"
ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ছত্তিশগড়ের
মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এই ঘটনাকে 'অত্যন্ত বেদনাদায়ক' বলে অভিহিত করেছেন এবং
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর
ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
বিস্ফোরণের পর কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের
পাশাপাশি কোম্পানি কর্তৃপক্ষও বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে এর মধ্যে বেদান্ত
কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবার প্রতি ৩৫ লাখ রুপি এবং পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়ার
ঘোষণা দিয়েছে। আহতদের জন্য ১৫ লাখ রুপি এবং সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ বেতন দেওয়ার
প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী পৃথকভাবে নিহত ও আহতদের
জন্য বিশেষ অনুদান ঘোষণা করেছেন।
উল্লেখ্য, ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বেদান্ত লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত। প্রাথমিক তদন্তে যান্ত্রিক
ত্রুটি বা পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার বিষয়টিকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী
দলগুলো এই ঘটনায় কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

