ট্রাম্পের চাপের মুখেও মেক্সিকানদের রক্ষা করব: ক্লদিয়া শিনবাউম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৯
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম
যুক্তরাষ্ট্রের ডিটেনশন সেন্টার বা অভিবাসন আটককেন্দ্রে মেক্সিকান নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান মৃত্যু এবং কিউবার ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত জ্বালানি অবরোধের বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম। ওয়াশিংটনের নানামুখী চাপের মুখেও নিজের দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় তিনি কোনো আপস করবেন না বলে জানিয়েছেন।
লুইজিয়ানার একটি অভিবাসন কেন্দ্রে ৪৯
বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক আলেজান্দ্রো ক্যাব্রেরা ক্লেমেন্টের মৃত্যুর পর মেক্সিকো
সরকারের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে এটি
১৫তম মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা।
প্রেসিডেন্ট শিনবাউম এই মৃত্যুগুলোকে
"অগ্রহণীয়" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইসিই ডিটেনশন
সেন্টারগুলোর পরিবেশ "মানবাধিকারের মানদণ্ড এবং জীবন রক্ষার নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ
নয়।" তিনি অবিলম্বে এই ১৫টি মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন এবং মেক্সিকান
কনসুলেটগুলোকে প্রতিদিন আটককেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন।
শিনবাউম বলেন, "আমরা মেক্সিকানদের
অধিকার রক্ষায় যেকোনো স্তরে লড়াই করব। আমাদের অনেক নাগরিকের একমাত্র অপরাধ হলো তাদের
কাছে বৈধ কাগজপত্র নেই।" মেক্সিকো সরকার বিষয়টি নিয়ে 'ইন্টার-আমেরিকান কমিশন অন
হিউম্যান রাইটস'-এ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং প্রয়োজনে জাতিসংঘে আপিল করার বিষয়টিও
বিবেচনা করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে শিনবাউমের সাম্প্রতিক
টানাপোড়েনের মূল কেন্দ্রে রয়েছে কিউবা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন
যে, কিউবায় তেল পাঠালে যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। মেক্সিকো ঐতিহাসিকভাবে
কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটিতে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। যদিও প্রাথমিক চাপের মুখে
মেক্সিকো সাময়িকভাবে কিউবায় তেল পাঠানো স্থগিত করেছিল, কিন্তু শিনবাউম এখন সরাসরি ট্রাম্পের
এই নীতির বিরোধিতা করছেন। তিনি কিউবার ওপর এই জ্বালানি অবরোধকে "অন্যায্য"
বলে অভিহিত করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কিউবার জনগণকে
"শ্বাসরোধ" করার চেষ্টা করছে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিনবাউম ট্রাম্পের
উস্কানিমূলক আচরণের বিপরীতে বেশ ধৈর্যশীল ও পরিমাপিত অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। তিনি
মাদক কার্টেল দমনে ট্রাম্পের অনুরোধে পূর্বসূরিদের চেয়েও বেশি কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন,
মূলত শুল্ক আরোপ বা সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি এড়াতে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের
যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন মেক্সিকোর
ওপর আগের চেয়ে বেশি নির্ভরশীল। এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাচ্ছেন শিনবাউম। কাউন্সিল অফ
দ্য আমেরিকাস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যারিন জিসিস বলেন, "শিনবাউম বুঝতে পারছেন
যে বাণিজ্য এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অগ্রগতি বজায় রেখেও নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ
ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া সম্ভব।"
যদিও ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প শিনবাউমকে
"চমৎকার মানুষ" হিসেবে অভিহিত করেছেন, তবে অভিবাসন নীতি এবং কিউবা ইস্যুতে
দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ফাটল এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মেক্সিকোর এই নারী নেতৃত্ব
বুঝিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইলেও দেশের সম্মান ও নাগরিকদের
প্রাণের বিনিময়ে তা হবে না।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

