যুদ্ধবিরতিতে ‘অবশ্যই’ লেবাননকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে: ঘালিবাফ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০৪
মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ
লেবাননে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান জল্পনার মধ্যে বড় ধরনের দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।
তিনি জানিয়েছেন, লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি
অর্জিত হলে তা হবে হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের প্রতিরোধ এবং ‘অ্যাক্সিস অব
রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ
অক্ষের অবিচল সংগ্রামের চূড়ান্ত ফল। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া
এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইরানের এই শীর্ষ নেতা বলেন, লেবাননে একটি
ব্যাপক যুদ্ধবিরতির পূর্ণতা ও সংহতি হবে মহান হিজবুল্লাহর বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ এবং
প্রতিরোধ অক্ষের ঐক্যের ফসল। ইরান এবং এই অঞ্চলের প্রতিরোধ যোদ্ধারা অভিন্ন সত্তা।
তারা যেমন যুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে, তেমনি যেকোনো যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রেও
তাদের অবস্থান অভিন্ন থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করে ঘালিবাফ বলেন,
“ওয়াশিংটনকে অবশ্যই
এই চুক্তি মেনে চলতে হবে। তাদের উচিত ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’ বা ইসরায়েল তোষণ
করার ভুল নীতি থেকে দ্রুত সরে আসা। গত সপ্তাহে পাকিস্তান-সমর্থিত মধ্যস্থতায় তেহরান
ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছিল, তাতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল। তবে
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ
করেন।
বর্তমানে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি
সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে ওয়াশিংটনে সরাসরি আলোচনা চলছে। পাকিস্তান ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায়
গত কয়েক দিন ধরে এই প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
দাবি করেছেন, ইরান নয় বরং ইসরায়েলের সামরিক শক্তির সামনে নতি স্বীকার করেই হিজবুল্লাহ
আলোচনার টেবিলে এসেছে। অন্যদিকে ঘালিবাফ, যিনি ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে
এই সংবেদনশীল আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তিনি পুরো বিষয়টিকে তেহরানের কূটনৈতিক জয় হিসেবে
প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন।
মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। গত ৮ এপ্রিল লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকে। যদিও বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে সরাসরি আলোচনার খবর পাওয়া যাচ্ছে, তবুও দক্ষিণ লেবাননের বিন্ত জবেইলসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঘালিবাফের এই বক্তব্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ও হিজবুল্লাহর প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণের চেষ্টা। ইরান এটি স্পষ্ট করতে চায় যে, তাদের বাদ দিয়ে এই অঞ্চলে কোনো স্থায়ী শান্তি বা যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়।
বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে জাতিসংঘসহ বিশ্বশক্তিগুলো। লেবাননের সাধারণ
মানুষ এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে একটি টেকসই শান্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

