টাইমের তালিকায়
৫ম বারের মতো বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তি নেতানিয়াহু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০৭
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির বার্ষিক তালিকায় আবারো স্থান করে নিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম’ ২০২৬ সালের এই তালিকা প্রকাশ করে। নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এটি তার পঞ্চম বারের মতো এই তালিকায় অন্তর্ভুক্তি।
টাইম ম্যাগাজিন তাদের প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুকে
বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বিতর্কিত কিন্তু প্রভাবশালী নেতা হিসেবে চিত্রায়িত করেছে।
সাময়িকীটি উল্লেখ করেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় নেতানিয়াহু “দেশের ইতিহাসের
সবচেয়ে ভয়াবহ নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য দায়ী” ছিলেন। তবে সেই খাদের কিনারা থেকে
তিনি এক অবিশ্বাস্য রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন।
টাইমের ভাষ্যমতে, লেবানন ও ইরানে সাম্প্রতিক
সামরিক অভিযান এবং গাজা থেকে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার কৃতিত্ব ইসরায়েলি জনগণের কাছে
নেতানিয়াহুর হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রেখেছে।
তালিকায় নেতানিয়াহুর সাফল্যের কথা বলা
হলেও, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন এবং চলমান আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে কঠোর সমালোচনাও করা হয়েছে।
টাইম সতর্ক করে বলেছে, এসব পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি
নষ্ট হচ্ছে এবং বিশেষ করে তরুণ আমেরিকানদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন আশঙ্কাজনকভাবে
হ্রাস পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং সকল জিম্মি ইসরায়েলে ফিরে আসে। তবে ৭ অক্টোবরের
ব্যর্থতার জন্য নেতানিয়াহু কখনোই সরাসরি দায় স্বীকার করেননি, বরং এর দায় তিনি নিরাপত্তা
কর্মকর্তাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে সমালোচিত হয়েছেন।
২০২৬ সালের এই প্রভাবশালী তালিকায় নেতানিয়াহু
ছাড়াও আরও দুই ডজন রাজনৈতিক নেতার নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সামরিক প্রধান ড্যান কেইন এবং হোয়াইট
হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম এবং নিউ ইয়র্ক সিটির
মেয়র জোহরান মামদানি, অভিনেতা বেন স্টিলার, ডিজাইনার রাল্ফ লরেন এবং গায়ক নোয়াহ
কাহান।
ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় মেয়াদে
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহুর জন্য এই স্বীকৃতি একাধারে ক্ষমতার দাপট
এবং বিতর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরে তার পদত্যাগের দাবি ও
বিচার বিভাগীয় সংস্কার নিয়ে তীব্র আন্দোলনের মুখেও তিনি যেভাবে টিকে আছেন, তাই তাকে
বিশ্বের শীর্ষ প্রভাবশালীদের কাতারে রাখতে বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে ইসরায়েলি জনমত তার পক্ষে কিছুটা
ফিরলেও, ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা তদন্তে একটি রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের চাপে রয়েছেন তিনি।
তবে সব চাপ উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজের প্রভাব অব্যাহত রাখাই নেতানিয়াহুর
এই বছরের বড় চমক।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

