ল্য পেনের সাথে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের গোপন বৈঠক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১৩
মারিন ল্য পেন
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ সরকারের সাথে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই দেশটির কট্টর ডানপন্থি নেত্রী মারিন ল্য পেনের সাথে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত জশুয়া জারকা। প্যারিসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো যখন লেবানন ইস্যুতে ফ্রান্সকে আলোচনার বাইরে রাখার জন্য প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছে তেল আবিব।
বৈঠকের নেপথ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব: ফরাসি ইহুদি
রেডিও স্টেশন আরসিজে প্রথম এই বৈঠকের খবর প্রকাশ করে, যা পরবর্তীতে ইসরায়েলি দূতাবাস
নিশ্চিত করেছে। গত দুই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ম্যাক্রঁর কাছে পরাজিত ল্য পেনের সাথে
ইসরায়েলের এই ঘনিষ্ঠতা মূলত ম্যাক্রঁ সরকারের ইসরায়েল-বিরোধী অবস্থানের পাল্টা জবাব
হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ম্যাক্রঁ সম্প্রতি ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা
করায় দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে তলানিতে ঠেকেছে।
লেবানন আলোচনা থেকে ফ্রান্সকে বর্জন: বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা চলছে, সেখান থেকে ফ্রান্সকে পুরোপুরি
সরিয়ে রেখেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার
গত মঙ্গলবার স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আমরা ফরাসিদের
যতটা সম্ভব দূরে রাখতে চাই। শান্তি আলোচনায় তাদের কোনো ইতিবাচক ভূমিকা নেই।” এই বৈরী সম্পর্কের
মাঝেই ল্য পেনের সাথে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক প্যারিসকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিল বলে মনে
করা হচ্ছে।
কট্টর ডানপন্থিদের প্রতি ইসরায়েলের পরিবর্তিত
নীতি: ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েল ইউরোপের কট্টর ডানপন্থি দলগুলোকে বর্জন করে আসলেও,
সম্প্রতি সেই নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সা’র এর নির্দেশনায়
এখন ল্য পেনের ‘ন্যাশনাল র্যালি’, স্পেনের ‘ভক্স’ এবং ‘সুইডেন ডেমোক্র্যাটস’-এর মতো দলগুলোর
সাথে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ শুরু করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েল মনে করে, এই দলগুলো বর্তমানে
ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ সমীকরণ ও আইনি চ্যালেঞ্জ: ল্য পেনের সাথে
এই কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা এমন এক সময়ে বাড়ছে যখন তিনি আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের
প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তার সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি আইনি জটিলতা। ইউরোপীয়
ইউনিয়নের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আগামী জুলাই মাসে আদালতের একটি রায় আসার কথা রয়েছে,
যা নির্ধারণ করবে তিনি আগামী নির্বাচনে লড়তে পারবেন কি না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্যারিসের এলিসি
প্রাসাদের বর্তমান নেতৃত্বের সাথে সম্পর্ক শীতল হওয়ার সুযোগে ইসরায়েল এখন ফ্রান্সের
ভবিষ্যৎ রাজনীতির সম্ভাব্য বিকল্প ল্য পেনের ওপর বাজি ধরছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

