মিয়ানমারে জান্তাকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে টেলিনরের বিরুদ্ধে মামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১৯
মিয়ানমারে গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও অবস্থান সামরিক জান্তার হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে নরওয়ের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিকম জায়ান্ট ‘টেলিনর’-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, টেলিনরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্তত ১,২০০ অ্যাক্টিভিস্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অনেককে পরবর্তীতে অমানুষিক নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ: নরওয়েতে দায়ের
করা এই ক্লাস-অ্যাকশন মামলায় ১,২৫৩ জন গ্রাহকের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর টেলিনর তাদের
৯৬ শতাংশ ডেটা রিকোয়েস্ট বা তথ্য প্রদানের অনুরোধ মেনে নিয়েছিল। এই তথ্যের মধ্যে ছিল
গ্রাহকদের নাম, ঠিকানা এবং সর্বশেষ অবস্থান (লোকেশন), যা ব্যবহার করে জান্তা বাহিনী
নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা আন্দোলনকারীদের খুঁজে বের করে।
আউং থু-র লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা: গার্ডিয়ানের
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আউং থু নামে এক আন্দোলনকারীকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে
গ্রেপ্তার করা হয়। দুই সপ্তাহ নির্যাতনের পরও তিনি সঙ্গীদের তথ্য দিতে অস্বীকার করেন।
পরবর্তীতে দেখা যায়, টেলিনরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার সাথে সংশ্লিষ্ট আরও অনেককে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত
সাবেক এমপি ফিও জেয়া থও-র তথ্যও টেলিনর জান্তাকে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
টেলিনরের আত্মপক্ষ সমর্থন: ২০২২ সালে মিয়ানমার
থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া টেলিনর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানিয়েছে, তারা কল বা মেসেজের
বিস্তারিত তথ্য দেয়নি, বরং কেবল হিস্টোরিক্যাল মেটাডেটা শেয়ার করেছে। কোম্পানিটির দাবি,
তৎকালীন পরিস্থিতিতে তাদের কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ছিল এবং স্থানীয়
আইন মেনে চলতে তারা বাধ্য ছিল। টেলিনরের এক মুখপাত্র বলেন, “আমাদের কর্মীদের
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা বাজি ধরতে পারি না।”
আইনি ও রাজনৈতিক চাপ: সুইডেনভিত্তিক
সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড
অ্যাকাউন্টেবিলিটি ইনিশিয়েটিভ’ এবং অন্যান্য অধিকার সংস্থাগুলোর সহায়তায়
গত ৮ এপ্রিল এই মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে অন্তত ১১ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১.১ কোটি পাউন্ড)
ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। এদিকে নরওয়ে সরকারের ওপরও চাপ বাড়ছে। যেহেতু নরওয়ে সরকার
টেলিনরের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার, তাই এই ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে এ বছরের শেষের
দিকে একটি সংসদীয় তদন্ত শুরু হতে পারে। নরওয়ের সাবেক বিচারমন্ত্রী পার উইলি আমুন্ডসেন
বলেন, “শান্তি ও মানবাধিকারের
রক্ষক হিসেবে আমাদের যে বৈশ্বিক ভাবমূর্তি রয়েছে, এই ঘটনা তার সাথে একেবারেই খাপ খায়
না।”
মিয়ানমারে একসময় সবচেয়ে বড় বিদেশি টেলিকম
অপারেটর ছিল টেলিনর। গণতান্ত্রিক উত্তরণের সময় তারা ‘বিশ্বাসযোগ্য’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে
ব্যবসা শুরু করলেও, সংকটের সময় গ্রাহকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে না পারায় এখন
বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

