পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্ঘুম ও উৎকণ্ঠার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। তবে আলোচনায় অংশ নেওয়া ১১টি সূত্র জানিয়েছে, দুপক্ষের মধ্যে সংলাপ এখনো চলছে। গত সপ্তাহের মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার চার দিন পর অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক দশকের বেশি সময় পর প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের মুখোমুখি আলোচনা। পাশাপাশি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, ইসলামাবাদের বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা তিনটি অংশে বিভক্ত ছিল—একটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের জন্য, একটি ইরানের জন্য এবং একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য। বৈঠকের মধ্যস্থতাকারী ছিল পাকিস্তান।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান আজ সকালে যোগাযোগ করেছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’ তবে এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। এক মার্কিন কর্মকর্তা ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রসঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত আছে এবং চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ইসলামাবাদ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কখনোই বদলায়নি। তিনি বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। আর যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থানে অটল।’ একটি সমঝোতার লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার বিষয়ে কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র, তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী—গতকাল বুধবার এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ওয়াশিংটন যদি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে না নেয়, তাহলে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। প্রথম দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধের অবসান এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে কয়েক দশকের পুরোনো বিরোধের সমাধান করতে ইরানকে একটি ‘বৃহৎ সমঝোতা’ প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইসলামাবাদে প্রথম দফার ম্যারাথন আলোচনা মূলত দর-কষাকষিতে নিজেদের পাল্লা ভারী করার একটি পরিকল্পিত মহড়া হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে। আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে সাফল্যের সম্ভাবনা মূলত টেবিলে বসা পক্ষগুলোর রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা ও অবস্থার ওপর নির্ভর করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খোলাখুলিভাবেই চুক্তি চাইছেন এবং বলছেন যে ইরানও তা-ই চায়। তবে দুই পক্ষই অন্তত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ব্যাপারে একমত বলে মনে হচ্ছে। যদিও ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এই বিষয়ে তেহরানের দর-কষাকষির ক্ষমতা অনেক কমিয়ে দিয়েছে। ইরান জানে যে চীনের ওপর চাপ কমাতে তাদের যাতায়াত ব্যবস্থা অবাধ বা আরও সহজ করতে হবে। বিরোধ এখন চুক্তির মূল বিষয়বস্তু নিয়ে নয়, বরং খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে।
শান্তিচুক্তি নিয়ে আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্র: ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার বিষয়ে কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র, তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী—গতকাল বুধবার এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ওয়াশিংটন যদি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে না নেয়, তাহলে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান।
গত সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এ সপ্তাহেই আবার আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের এই বার্তা নিয়ে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, পরবর্তী দফার আলোচনা ‘খুব সম্ভবত’ পাকিস্তানের রাজধানীতেই হবে। লেভিট আরও বলেন, ‘এ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে আমরা আশাবাদী।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলই প্রকৃত সন্ত্রাসী-পেজেশকিয়ান: ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র সমালোচনা ও কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং অন্যায় কর্মকাণ্ড বলে আখ্যায়িত করেছেন।
গত বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘তারা দাবি করে যে আমরাই আসল সন্ত্রাসী। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারাই আসল সন্ত্রাসী।’
চুক্তি না হলে ফের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের: চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরানকে কড়া বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবিত চুক্তিতে রাজি না হলে আবারও সরাসরি যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন বাহিনী এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
গতকাল পেন্টাগনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
হেগসেথ জানান, ইরানকে চুক্তিতে আনতে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে। তিনি বলেন, যতদিন প্রয়োজন হবে এই অবরোধ চলবে এবং এর মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক সরবরাহ পথ বিচ্ছিন্ন রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য।
ইরানের অভ্যন্তরীণ সামরিক তৎপরতার ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের নিবিড় নজরদারি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, ইরান কোন কোন সামরিক সরঞ্জাম সরাচ্ছে বা সরিয়ে নিচ্ছে তার সব তথ্যই ওয়াশিংটনের কাছে রয়েছে।
তেহরানের উদ্দেশে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়ে হেগসেথ বলেন, আমরা তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছি। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে ওই অঞ্চলে ইরানের কার্যকর নৌ সক্ষমতা নেই এবং সমুদ্রপথ পুরোপুরি মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান চীনের: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। গতকাল আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ আহ্বান জানান ওয়াং ই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ওয়াং ই বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে যেমন সম্মান করা ও সুরক্ষিত রাখা উচিত, একইসঙ্গে এই জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা-নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রণালীটি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সর্বসম্মত আগ্রহ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আলোচনায় ফেরার পক্ষে চীন সমর্থন দিচ্ছে।’
তবে চীনের এই আহ্বানের জবাবে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলেছেন সে বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু জানানো হয়নি।
লেবাননে ৭০ স্থাপনা ধ্বংসের দাবি ইসরায়েলের: দক্ষিণ লেবাননের বিনত জুবাইল এলাকায় বুধবার হেজবুল্লাহর প্রায় ৭০টি স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
টেলিগ্রামে দেওয়া এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে দেওয়া হলো, যখন গতকাল দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল ওই এলাকায় হেজবুল্লাহর ‘প্রধান ঘাঁটি নির্মূল করার দ্বারপ্রান্তে’ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, লেবানন থেকে রাতভর চালানো একটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে তারা।
আইডিএফ আরো জানিয়েছে, ইসরায়েলি নৌ-বাহিনীর ক্রুরা ড্রোনটিকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা দেশের আকাশ রক্ষায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০টি প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে অংশ নিয়েছে।
ইসরায়েলে ৩৬ ক্ষেপণাস্ত্র হামালা হিজবুল্লাহর: লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ৩৯টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে বলে দাবি করেছে।
গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বসতি এলাকা, সেনা সমাবেশ, সামরিক যানবাহন এবং দক্ষিণ সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়া উত্তর ইসরায়েলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও এই অভিযানের আওতায় ছিল বলে তারা উল্লেখ করেছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, তাদের এই আক্রমণগুলো ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং এগুলো ইসরায়েলি সামরিক সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান ও চলাচলের ওপর ব্যাপক নজরদারি চালিয়ে এসব হামলা করা হয়।
জেদ্দায় সৌদি–পাকিস্তান বৈঠক: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বিরতি ইস্যুতে সৌদি আরবের জেদ্দায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বৈঠক করেছেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ বিরতি ও শান্তি আলোচনা নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন সৌদি যুবরাজ।
সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। এ সময় যুদ্ধ পরিস্থিতিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরেন সৌদি যুবরাজ।
অন্যদিকে বিশেষ বার্তা নিয়ে ইরানে গেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। বুধবারের বৈঠকের পর ইরান প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা চালাবে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান।
৩৪ বছর পর ইসরায়েল-লেবানন আলোচনা: ইসরায়েল ও লেবাননের নেতাদের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর এই প্রথম দুদেশের মধ্যে আলোচনা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা বৃহস্পতিবার আলোচনা করবেন, যা গত ৩৪ বছরের মধ্যে এক বিরল ঘটনা।
তিনি লিখেছেন, ‘ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটানোর চেষ্টা করছি। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি- প্রায় ৩৪ বছর।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় লেবানন। হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েলে চালানো হামলা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ। এছাড়া ২০২৪ সালের নভেম্বরে লেবাননে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েল কর্তৃক প্রায় প্রতিদিন লঙ্ঘনের প্রতিবাদেও তারা এই হামলা চালায়।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান: হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় দেশটির তেল শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, নতুন এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হলো তেল পরিবহন পরিকাঠামো।
এর আওতায় পেট্রোলিয়াম শিপিং টাইকুন মোহাম্মদ হোসেন শামখানির নেটওয়ার্কের মধ্যে পরিচালিত দুই ডজনেরও বেশি ব্যক্তি, কোম্পানি এবং জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, "ট্রেজারি 'ইকোনমিক ফিউরি'র মাধ্যমে আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে শামখানি পরিবারের মতো শাসকগোষ্ঠীর সেইসব অভিজাতদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যারা ইরানি জনগণের স্বার্থের বিনিময়ে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে।তিনি ইরানের বিরুদ্ধে একটি আর্থিক চাপ প্রয়োগের অভিযানের ইঙ্গিত দেন।
জাতিসংঘ থেকে ইসরায়েলকে বহিষ্কারের দাবি: জাতিসংঘ থেকে ইসরায়েলকে সাময়িক বরখাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার নুমান কুর্তুলমুস।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড বিল পাসের প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে তিনি এই আহ্বান জানান।
ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের ১৫২তম সাধারণ সভায় দেওয়া ভাষণে কুর্তুলমুস বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে যেমন বর্ণবাদের দায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছিল, ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
বক্তব্যে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের জন্য পৃথক আইন কার্যকর করা কি বর্ণবাদ নয়? জাতিসংঘ বর্তমানে কেবল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর ইচ্ছানুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এই সংস্থা গাজা সংঘাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহিংসতা বন্ধে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

