Logo

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধে বিজয়ী ঘোষণা ইরানের

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৩৮

যুদ্ধে বিজয়ী ঘোষণা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধবিরতি চললেও উত্তেজনা এখনও কমেনি। উল্টো খুব শিগগিরই আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মাঝেই যেকোনো ধরনের বিদেশি হুমকি ও আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরান পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখেছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তেহরানের সাথে ‘খুব ভালো কথা’ হয়েছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে তাকে ব্লাকমেইল না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরান ‘যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয়ী’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, নিজেদের দাবি পূরণ হওয়ায় ইরান কেবল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত শনিবার জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে গালিবাফ বলেন, ‘আমরা রণক্ষেত্রে বিজয়ী হয়েছি।’

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এবং ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথ নিয়ন্ত্রণ করছে।

গালিবাফ বলেন, ‘আমরা যদি যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়ে থাকি, তা শুধু এ কারণে যে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে।’ এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছিলেন, এই যুদ্ধে ইরানের জনগণই ‘বিজয়ী পক্ষ’ এবং ইরানই এই যুদ্ধে ‘বিজয়ী জাতি’।

ভঙ্গুর এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে কোনো পক্ষই আলোচনার বিস্তারিত জানায়নি। আট সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলি হামলা লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ থাকায় তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পারাপার হতো।

গত শনিবার তেহরান হঠাৎই নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলে হরমুজ প্রণালির ওপর আবারও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। জ্বালানি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টটি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার ফলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ইরান বলছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত নৌ-অবরোধের জবাবেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা এই অবরোধকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে মনে করছে। ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনেই বলেছেন, ইরানের নৌবাহিনী শত্রুদের ‘নতুন এবং তিক্ত পরাজয়’ উপহার দিতে প্রস্তুত। তবে ট্রাম্প মার্কিন নৌ-অবরোধের পক্ষে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, আগামী বুধবার বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যদি উভয় দেশ দীর্ঘমেয়াদী কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারে, তবে তিনি ‘পুনরায় বোমা বর্ষণ শুরু করবেন।’ 

দ্বিতীয় বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা: ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু করার বিষয়ে এখনও সম্মতি দেয়নি তেহরান, এবং এ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচিও নির্ধারিত হয়নি। শনিবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সময় অতিরিক্ত কিছু শর্ত সামনে এনেছে, যা ইরানের কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। ফলে পরবর্তী আলোচনায় বসতে হলে এসব শর্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান। তবে আগামী শুক্রবারের আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের দুটি নিরাপত্তা সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল জাজিরাকে তারা জানান, কয়েকটি কারণে তারা এমন ধারণায় পৌঁছেছেন।

প্রথমত, তারা উল্লেখ করেছেন যে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ভারী সামরিক পরিবহন বিমান, সি-১৭ গ্লোবমাস্টার, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের নিকটবর্তী রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।’

তারা আরও জানিয়েছেন যে, ‘বিমানবন্দর থেকে ইসলামাবাদের ‘রেড জোন’ পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়।’

সবশেষ কারণ হিসেবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘ইসলামাবাদের সেরেনা এবং ম্যারিয়ট—উভয় হোটেল থেকেই অতিথিদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং শুক্রবারের আগে নতুন কোনো বুকিং নেওয়া হচ্ছে না।’

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদের এই সেরেনা হোটেলেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার ঐতিহাসিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

পুরো ইরান উড়িয়ে দেয়া হবে-ট্রাম্প: ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে এবার আক্রমণাত্মক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজের সংবাদদাতা ট্রে ইয়িংস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শান্তি চুক্তিতে রাজি হওয়ার জন্য এটিই তেহরানের ‘শেষ সুযোগ’। অন্যথায় পুরো দেশকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ট্রাম্প তার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ইরান যদি এই চুক্তিতে সই না করে, তবে পুরো দেশটি উড়িয়ে দেয়া হবে।’

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমালোচনা করে বলেন, ইরান ইস্যুতে ওবামা যে ধরনের ‘ভুল’ করেছিলেন, তিনি তার পুনরাবৃত্তি করবেন না। ওবামার নীতিকে শিথিল আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, তার প্রশাসন ইরানকে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।

ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘যদি ইরান এই চুক্তিতে সই না করে, তবে পুরো দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’

আঙুল ট্রিগারেই আছে-ইরান: ইরানের সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে বলেন, ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নির্দেশিত পথে এবং দেশীয় প্রযুক্তি ও আধুনিক সমরাস্ত্রের ওপর নির্ভর করে ইরানি সেনাবাহিনী বর্তমানে যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিশালী। দেশের নিরাপত্তা ও জনগণের শান্তি রক্ষায় সেনাবাহিনী সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শত্রুপক্ষ কোনো ধরনের ভুল বা উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নিলে তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের ‘আঙুল ট্রিগারে’ প্রস্তুত আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মেজর জেনারেল হাতামি আরও আশ্বাস দেন যে, ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ সমুন্নত রাখতে এবং জনগণের সেবায় সেনাবাহিনী অতীতের মতোই অটল থাকবে। বিজয়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা সম্মানের সাথে প্রতিরোধ সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং দেশটির প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যেকোনো মুহূর্তে আবারও লড়াই শুরু হতে পারে। রবিবার ভোরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

দুই দেশের মধ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে দীর্ঘদিনের যে অনিশ্চয়তা চলছে, তার মধ্যেই গালিবাফের এই কড়া মন্তব্য সামনে এল। কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান না আসায় যুদ্ধবিরতি বজায় থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলি রেডিওর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় দেশটির সেনাবাহিনীকে ‘হাই অ্যালার্ট’ বা উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরির ক্ষেত্রে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দেওয়া হয়েছে। 

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল: দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পর্যায়ে বহুল প্রতীক্ষিত সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যদিও পাকিস্তান, ইরান বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনার সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আলোচনার উদ্দ্যেশ্যে গতকাল রোববার ওয়াশিংটনের একটি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।  

এদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা সামনে রেখে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। বিদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের আগমনে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের  নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান: ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ‘নতুন এবং অতিরিক্ত’ দাবি উত্থাপন করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। অথচ এর আগে তেহরানের দেওয়া আলোচনার রূপরেখায় (ফ্রেমওয়ার্ক) সম্মত হয়েছিল ওয়াশিংটন।

কাউন্সিল জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে এই আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছিল ইরান। দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টা ধরে এই আলোচনা চলে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা আসেনি।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘এই দফার আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট ফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। যখন শত্রু তাদের অতিরিক্ত দাবিদাওয়া ত্যাগ করবে এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার সঙ্গে তাদের দাবিগুলোর সমন্বয় ঘটাবে, তখনই আবার আলোচনা শুরু হবে।’ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

কাউন্সিল তাদের বিবৃতিতে আরও জানায়, ‘সম্প্রতি তেহরানে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের মধ্যস্থতায় আমেরিকানদের পক্ষ থেকে নতুন কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বর্তমানে সেগুলো পর্যালোচনা করছে এবং এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান এই শর্তে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধ করতে হবে। এছাড়া কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ইরানি নিয়ন্ত্রণে রেখে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ‘শর্তসাপেক্ষে সাময়িকভাবে’ খুলে দেওয়া হবে।

ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে, পারমিট ইস্যু করবে এবং ফি (টোল) আদায় করবে। তবে নৌ-অবরোধের মতো কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হলে তারা আবারও যাতায়াতে বিধিনিষেধ আরোপ করবে।

অবরোধ না ওঠা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ-আইআরজিসি: ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। বাহিনীটির দাবি, ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং ইরানি নৌযান ও বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ সরায়নি।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, কয়েকটি নৌযান এই প্রণালি পার হলেও যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে’ ইরানি নৌযান ও বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেনি। তাই এই প্রণালির দিকে এগিয়ে আসা যেকোনো নৌযানকে ‘শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতাকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ভারতীয় জাহাজে গুলি, ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠার পর ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ভারত সরকার। গত শনিবার ওই প্রণালি অতিক্রম করার সময় একটি ইরানি গানবোট থেকে ভারতীয় জাহাজে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে জানা গেছে।

এর আগে ওই দিনই ‘ভাগ্য লক্ষ্মী’ নামক একটি জাহাজের নাবিকরা ইরানি নৌবাহিনীর সাথে তাদের কথোপকথনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন, যেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির আভাস পাওয়া গিয়েছিল। এই ঘটনার পরপরই ভারত সরকার দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এবং এ বিষয়ে তাদের ‘গভীর উদ্বেগ’ ও কড়া প্রতিবাদ জানায়।

নয়াদিল্লি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যাতে ভারতের উদ্দেশ্যে আসা এবং ভারত থেকে ছেড়ে যাওয়া সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হয়। দিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তেল আবিবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারের পদত্যাগের দাবিতে গত শনিবার রাতে তেল আবিবে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রাফায়েল পিনাইনা বলেন, নেতানিয়াহু ভেতর থেকে আমাদের সমাজকে ধ্বংস করছেন এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক নষ্ট করছেন। তাই তিনি এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এখানকার মানুষ বর্তমান ও পরবর্তী সরকারের কাছে গত ৭ অক্টোবর ও এর পরবর্তী ঘটনাগুলোর তদন্ত দাবি করছে। কারণ, আমাদের সবারই সত্য জানার অধিকার আছে।’

এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে একটি ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির পরপরই সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল এবং পথটি পুনরায় বন্ধ হওয়ার আগে অন্তত এক ডজনের বেশি জাহাজ নিরাপদে ওই এলাকা অতিক্রম করেছিল। তবে নতুন করে এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে আবারও অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনাকে সামনে রেখে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বিভিন্ন প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।গত  শুক্রবারের আগেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সর্বশেষ আলামত হিসেবে সূত্র জানায়, ইসলামাবাদের সেরেনা ও ম্যারিয়ট হোটেল থেকে অতিথিদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আগামী শুক্রবার পর্যন্ত নতুন কোনো বুকিং নেওয়া হচ্ছে না। এর আগে গত ১১ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা সেরেনা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টার সরাসরি বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়া শেষ হয়। এরপর উত্তেজনা বাড়লেও পাকিস্তানসহ অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন