দ্য গার্ডিয়ানের নিবন্ধ
ইউরোপে মুসলিমদের প্রতি ভুল ধারণা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ১৪:৫৬
ছবি : সংগৃহীত
ইউরোপে বাস করছেন প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মুসলিম। কিন্তু এ বিশাল জনগোষ্ঠী সেখানে সামাজিক, রাজনৈতিক নানা সংকটে দিন পার করছেন। গবেষণাধর্মী সংস্থা নিউ হরাইজন প্রজেক্ট-এর পরিচালক শাদা ইসলাম সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে এক নিবন্ধে এ সমস্যাগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন।
ভুল ধারণার বেড়াজালে মুসলিমরা
শাদা লিখেছেন, ‘ইউরোপে মুসলিমদের সাধারণত চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়া, ধর্মীয় রীতিনীতির প্রতি অতিমাত্রায় অনুগত এবং আলাদা সমাজে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাসকারী হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে হিজাব পরা নারীদের নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা প্রচলিত, তা তাদের প্রতি বৈষম্যকে আরও গভীর করে তুলেছে ‘
শাদা ইসলামের নিবন্ধ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
তিনি উল্লেখ করেন,‘ইউরোপের দেশগুলো মুসলিমদের আরও বেশি ইউরোপীয় হতে বলে। এর অর্থ, তাদের মদ পান করা, শূকরের মাংস খাওয়া এবং ইউরোপীয় সংস্কৃতিকে পুরোপুরি গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু এসব চাপ মুসলিমদের নিজেদের পরিচয় এবং বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের প্রভাব
গত ১৪ মাসে ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের ফলে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষের মাত্রা আরও বেড়েছে। শাদা ইসলাম দেখিয়েছেন, কীভাবে এই সংঘাত ইউরোপের মুসলিমদের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলেছে।
‘নেদারল্যান্ডসে ইসরায়েলি ফুটবল দলের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার পর মুসলিমদের আরও চাপের মুখে পড়তে হয়। এই ঘটনায় মুসলিমদের মরক্কো বংশোদ্ভূত বলে অভিযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হয়।’
সংস্কৃতিগত চাপ ও বৈষম্য
ইউরোপীয় সমাজে মুসলিমদের একীভূত হওয়ার নামে চাপানো হয় বিভিন্ন সংস্কৃতিগত আচরণ। কিন্তু এ ধরনের চাপ মুসলিমদের নিজেদের বিশ্বাস এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্মকর্তার কথা উল্লেখ করে শাদা বলেছেন, ‘তিনি আমাকে বলেছেন, ইউরোপীয় সমাজে মুসলিমদের এখনও গ্রহণ করা হয় না। তারা ভাষায় যতই দক্ষ হোক, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করুক, সঠিক পোশাক পরুক– কিছু সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ বলে ওঠেন, তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মুসলিমরা যায় না।’
আশার আলো
শাদা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘একটা সময় ইউরোপীয় ইহুদিদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হতো। সেটি কেটে গেছে। একদিন মুসলিমদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি পরিবর্তিত হবে, ইউরোপীয়রা ভিন্নতাকে মেনে নেবে। তবে এ ক্ষেত্রে মুসলিমদের বেশি করে আওয়াজ তুলতে হবে।’
এটিআর/

