পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে তুরুপের তাস কাতলা মাছ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৫
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির ময়দানে এখন এক অদ্ভুত লড়াই শুরু হয়েছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে বাঙালির চিরচেনা ‘মাছ’। বৃহস্পতিবার ২৯৪টি আসনের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে দেখা গেল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন হাতে বড় বড় কাতলা মাছ নিয়ে। জাতীয় রাজনীতিতে নিরামিষাশী হিসেবে পরিচিত বিজেপির এমন ‘মাছ-ভক্তি’ মূলত তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগের পাল্টা জবাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর
নির্বাচনী সভাগুলোতে বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালিদের মাছ,
মাংস ও ডিম খাওয়ার অধিকারে হস্তক্ষেপ করবে। উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোতে বিজেপির কড়া নিরামিষাশী
অবস্থান এবং বিভিন্ন খাদ্যে নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিজেপিকে ‘বাঙালি সংস্কৃতি বিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরার
চেষ্টা করছেন। এই রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতেই বিজেপি এখন জনসম্মুখে মাছ খাওয়ার প্রদর্শন
শুরু করেছে। এমনকি হিমাচল প্রদেশের সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরকেও সম্প্রতি ক্যামেরার সামনে
ঘটা করে মাছ খেতে দেখা গেছে, যাতে বাঙালির মনে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তৈরি হওয়া শঙ্কা দূর
করা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৬৫
শতাংশ মানুষ নিয়মিত মাছ খান এবং এটি কেবল খাবার নয়, বরং বাঙালির আঞ্চলিক পরিচয়ের এক
অবিচ্ছেদ্য অংশ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উৎসব রায়ের মতে, তৃণমূল এই বাঙালি
আবেগ বা ‘রিজিওনাল আইডেন্টিটি’কে
কাজে লাগিয়ে ফায়দা তুলতে চাইছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী মনে
করেন, এই পুরো বিতর্কটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপরিকল্পিত চাল, যেখানে বিজেপি এখন
একপ্রকার বাধ্য হয়েই মাছ হাতে প্রচারে নেমেছে।
মাছের লড়াইয়ের পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে
ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়া নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে,
যার মধ্যে ২৭ লক্ষ মানুষ আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তবে সব ছাপিয়ে ভোটের মাঠে এখন আলোচনা
চলছে—মাছের এই ‘হুক’ দিয়ে বিজেপি
কি শেষ পর্যন্ত বাঙালির ভোট ধরতে পারবে, নাকি মমতার ‘বাঙালি আবেগ’ই জয়ী হবে? ৪ঠা মে ভোটের ফলাফল
ঘোষণার দিনই মিলবে এর চূড়ান্ত উত্তর।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

