দক্ষিণ কোরিয়া বিমানবাহিনীর ক্ষমা প্রার্থনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৭
দক্ষিণ কোরিয়ার বিমানবাহিনী ২০২১ সালে ঘটা দুটি এফ-১৫কে যুদ্ধবিমানের মাঝআকাশে সংঘর্ষের ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। বুধবার দেশটির ‘বোর্ড অব অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন’ কর্তৃক প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসার পর এই ক্ষমা চাইল সেনাবাহিনী। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সে সময় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বিমানের ভেতরে সেলফি তোলা এবং ভিডিও করার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল।
তদন্তকারীদের তথ্যমতে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে
দেগু শহরের কাছে একটি ফরমেশন ফ্লাইটের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিমানের অন্যতম চালক তার
ইউনিটের সাথে শেষ ফ্লাইটটি স্মরণীয় করে রাখতে মাঝআকাশে সেলফি তোলা এবং ভিডিও করার
পরিকল্পনা করেন। ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ঠিক করতে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই অত্যন্ত
ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিমানটিকে ওপরের দিকে তোলেন এবং বাঁক নেন। একই সময়ে অন্য একটি বিমানের
পাইলট সেই দৃশ্য ভিডিও করছিলেন। ভিডিওর জন্য পজিশন নিতে গিয়ে বিমান দুটি অত্যন্ত কাছাকাছি
চলে আসে এবং উইংম্যানের বিমানের লেজের অংশটি লিড জেটের ডানায় সজোরে আঘাত করে।
যদিও এই দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি,
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চ প্রযুক্তির এই যুদ্ধবিমান দুটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অডিট
বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে প্রায় ৮৮ কোটি উয়ন (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায়
৭ কোটি টাকা বা ৬ লাখ মার্কিন ডলার) মূল্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে
সংশ্লিষ্ট উইংম্যান পাইলটকে দুর্ঘটনার জন্য প্রধান দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং
তাকে মেরামতের খরচের অন্তত ১০ শতাংশ বা প্রায় ৬০ হাজার ডলার ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধ করার
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিমানবাহিনীর একজন মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে
জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর দায়ী পাইলটকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হয়েছে এবং তাকে উড়ান
ডিউটি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। ওই পাইলট ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন। দক্ষিণ
কোরিয়ার বিমানবাহিনী এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের
অপেশাদার আচরণ ঠেকাতে ফ্লাইং সেফটি রুলস বা উড্ডয়ন নিরাপত্তা নীতি আরও কঠোর করেছে।
একই সাথে মাঝআকাশে ব্যক্তিগত কারণে ছবি বা ভিডিও ধারণের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান নিয়ে এ ধরনের অপেশাদারিত্বের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাধারণ
মানুষের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

