প্রিন্স হ্যারি ব্রিটেনের হয়ে কথা বলছেন না: ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৩
ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ১৫২১তম দিনে এসে কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত লড়াই এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রিন্স হ্যারি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়েছে, অন্যদিকে দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী সাফল্যের দাবি করেছে কিভ।
কিভ সিকিউরিটি ফোরামে দেওয়া এক আবেগঘন
বক্তৃতায় ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য ও সাবেক সেনাসদস্য প্রিন্স হ্যারি ইউক্রেনের পাশে
দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে
ইউক্রেন যখন তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করেছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সার্বভৌমত্ব
রক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছিল। এটি মার্কিন নেতৃত্বের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। ওয়াশিংটনকে
প্রমাণ করতে হবে যে তারা তাদের আন্তর্জাতিক চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে জানে।
তবে এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সরাসরি বলেন, “প্রিন্স হ্যারি
ব্রিটেনের হয়ে কথা বলছেন না। আমার মনে হয়, হ্যারির চেয়ে আমিই ব্রিটেনের জনমতের বেশি
প্রতিনিধিত্ব করি।” যদিও ট্রাম্প বিদ্রূপের সুরে যোগ করেন
যে, তিনি হ্যারির ‘পরামর্শ’ পছন্দ করেছেন।
যুদ্ধের ময়দানে ইউক্রেন এক অভাবনীয় প্রযুক্তিগত
সাফল্যের দাবি করেছে। ইউক্রেনীয় এমপি মারিয়ান জাবলোটস্কি জানিয়েছেন, তিনি নিজে ২,০০০
কিলোমিটার দূর থেকে একটি এফপিভি ইন্টারসেপ্টর ড্রোন পরিচালনা করে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু
ধ্বংস করেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইখাইলো ফেদোরভ একে ‘ঐতিহাসিক পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত
করে বলেন, “ইউক্রেনই বিশ্বের প্রথম দেশ যারা পদ্ধতিগতভাবে হাজার
কিলোমিটার দূর থেকে ড্রোন নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা অর্জন করেছে।” এই প্রযুক্তি
রুশ আক্রমণ প্রতিহত করতে গেম-চেঞ্জার হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় শহর তুয়াপসে-তে ইউক্রেনের
ড্রোন হামলার ফলে সৃষ্ট আগুন চারদিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
অন্তত চারটি বড় তেল স্টোরেজ ট্যাঙ্ক এখনো জ্বলছে। গত সোমবারের এই হামলার ফলে সৃষ্ট
ধোঁয়ায় ওই অঞ্চলের আকাশ কালো হয়ে আছে এবং বিষাক্ত বৃষ্টি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার
জ্বালানি রপ্তানি এবং যুদ্ধের তহবিল সংকুচিত করতে ইউক্রেন এই কৌশলগত হামলা চালিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইউক্রেনের জন্য
৯০ বিলিয়ন ইউরোর একটি বিশাল ঋণ প্যাকেজ এবং ২০তম নিষেধাজ্ঞা নীতি অনুমোদন করেছে। ইইউ
কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৫
বিলিয়ন ইউরোর প্রথম কিস্তি জুনের মধ্যেই ছাড় করা হবে। মজার ব্যাপার হলো, এই অর্থের
বড় অংশ ব্যয় করা হবে ইউক্রেনের নিজস্ব ড্রোন উৎপাদন বৃদ্ধিতে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার
হামলায় ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে ৯ ও ১৪ বছর বয়সী দুই কিশোরীসহ অন্তত তিন
বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, রাশিয়ার সামারা ও বেলগোরোড অঞ্চলেও ইউক্রেনীয়
ড্রোন হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

