Logo

আন্তর্জাতিক

এভারেস্টে বরফখণ্ডের বাধায় আটকা শত শত আরোহী

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৫

এভারেস্টে বরফখণ্ডের বাধায় আটকা শত শত আরোহী

মাউন্ট এভারেস্ট

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের স্বপ্নে বিভোর শত শত আরোহী বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বেস ক্যাম্পের ঠিক উপরেই রুটের মাঝে একটি বিশালাকার এবং বিপজ্জনক বরফখণ্ড (সেরাক) ঝুলে থাকায় পর্বতারোহণের মূল পথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে নেপাল কর্তৃপক্ষ আপাতত আরোহীদের যাত্রা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

নেপালের পর্বতারোহণ বিভাগের কর্মকর্তা হিমাল গৌতম শুক্রবার জানান, বেস ক্যাম্প এবং ক্যাম্প-১ এর মধ্যবর্তী স্থানে একটি বিশাল বরফখণ্ড অত্যন্ত অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এটি ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকায় আরোহীদের জন্য এই রুট ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে কর্মকর্তারা এবং অভিযান আয়োজকরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কয়েকশ বিদেশি আরোহী বর্তমানে বেস ক্যাম্পে অপেক্ষা করছেন।

যে স্থানে এই বরফখণ্ডটি দেখা দিয়েছে, সেটি মূলত ভয়ংকর 'খুম্বু আইসফল' এলাকার অংশ। এটি একটি সর্বদা চলন্ত হিমবাহ, যেখানে গভীর ফাটল এবং ১০ তলা ভবনের সমান উঁচু বরফের স্তূপ থাকে। একে এভারেস্ট অভিযানের অন্যতম কঠিন ও বিপজ্জনক অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাগরমাতা দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটি, যারা মূলত পর্বতারোহণের পথ তৈরির কাজ তদারকি করে, জানিয়েছে তারা ড্রোন বা আকাশপথে এলাকাটি জরিপ করার পরিকল্পনা করছে। কমিটির চেয়ারম্যান লামা কাজি শেরপা বলেন, তুষারধসের ঝুঁকি এখন অনেক বেশি। আমরা বরফখণ্ডটি গলে নিরাপদ স্তরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করছি।

এই পরিস্থিতি পর্বতারোহীদের মনে ২০১৪ সালের সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে। সে বছর হিমবাহের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়লে ১৬ জন স্থানীয় শেরপা গাইড নিহত হয়েছিলেন। এভারেস্টের ইতিহাসে সেটি ছিল অন্যতম বড় বিপর্যয়। বর্তমানের এই অস্থিতিশীল বরফখণ্ডটি একই ধরনের বিপদের সংকেত দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

নেপাল সরকারের তথ্যমতে, চলতি বসন্তকালীন মৌসুমে এভারেস্ট চূড়ায় ওঠার জন্য ৪১০ জন বিদেশি আরোহীকে অনুমতি (পারমিট) দেওয়া হয়েছে। তাদের সাথে সমসংখ্যক বা তারও বেশি স্থানীয় গাইড ও সহায়ক রয়েছেন। সাধারণত মে মাসে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরোহীরা চূড়ান্ত আরোহণের চেষ্টা করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালের ২৯ মে নিউজিল্যান্ডের এডমন্ড হিলারি এবং নেপালের তেনজিং নরগে প্রথমবারের মতো ৮,৮৪৯ মিটার উচ্চতার এই শৃঙ্গ জয় করেছিলেন। এরপর থেকে হাজার হাজার মানুষ এই চূড়ায় পা রাখলেও খুম্বু আইসফলের মতো এলাকাগুলো আজও আরোহীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন