Logo

আন্তর্জাতিক

শান্তি আলোচনায় ফের বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২১

শান্তি  আলোচনায় ফের বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ও ১২ ফেব্রুয়ারি প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা হয়। কিন্তু কোনো সমঝোতা ছাড়া তা শেষ হয়। এরপর দেশ দুটির মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য চেষ্টা করছে প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ। দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ ও পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইসলামাবাদে দুটি হোটেল বুকিং দিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অপরাধে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা বসতে ইরান এ পর্যন্ত রাজি হয়নি। কিন্তু আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে অন্তত ৯টি মার্কিন বিমান যোগাযোগ সরঞ্জাম, যানবাহন, নিরাপত্তা কর্মী এবং কারিগরি জনবল নিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।

পাকিস্তানে ইরানের প্রতিনিধি দল: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে দেশটির একটি প্রতিনিধি দল গতকাল শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা। পাকিস্তানের কয়েকটি সরকারি সূত্র আল-জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির ‘প্রবল সম্ভাবনা’ রয়েছে।

এর আগে গতকাল দিনের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার টেলিফোনে কথা বলেছেন। উভয় পক্ষ এ খবর নিশ্চিত করেছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফোনে দুই নেতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইসহাক দার নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, আরাগচি পাকিস্তানের ‘ধারাবাহিক ও গঠনমূলক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকার’ প্রশংসা করেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আরাগচি গতকাল পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গেও পৃথকভাবে ফোনে কথা বলেছেন। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই ফোনালাপের বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

তেল স্থাপনায় হামলা হলে জবাব দেবে ইরান: ইরানের তেলক্ষেত্রে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তার সমপরিমাণ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাঈল সাকাব এসফাহানি। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

তিনি বলেন, যদি প্রতিপক্ষ আবারও আক্রমণের পথ বেছে নেয়, তবে ইরান ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতেই প্রতিক্রিয়া জানাবে। ইরানের কোনো তেলকূপে হামলা হলে, যে দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সেই আক্রমণ চালানো হবে, সেই দেশের তেল স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

তেহরানের চলমান কূটনৈতিক আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, আলোচনায় ইরান শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ না করতে নাগরিকদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ খাতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। পাশাপাশি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

হরমুজে ইরান মিত্রদের ফি মওকুফ: মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী কিছু দেশকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। গতকাল শুক্রবার মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বন্ধুপ্রতিম’ রাষ্ট্রগুলোর জন্য এই পথ দিয়ে চলাচলে নির্ধারিত ফি মওকুফ করা হয়েছে। মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি জানিয়েছেন, বর্তমানে কয়েকটি দেশের জন্য এই ছাড় কার্যকর রয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার মতো দেশের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জালালি বলেন, ভবিষ্যতে এই নীতির কী পরিবর্তন হতে পারে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে আপাতত ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ব্যতিক্রমী সুবিধা কার্যকর রাখতে কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ এবং চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই সিদ্ধান্ত কৌশলগত বার্তা বহন করছে। 

এর মাধ্যমে একদিকে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিচ্ছে তেহরান।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। 

জানা গেছে, দেশটির বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ সেন্টকমের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এরই মধ্যে প্রবেশ করেছে। সেন্টকম জানিয়েছে, রণতরীটি বর্তমানে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে এবং ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে। তবে এটি আগে থেকেই মোতায়েন থাকা বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেবে নাকি কোনো জাহাজকে প্রতিস্থাপন করবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। 

হরমুজ ঘিরে নতুন সামরিক পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের: ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন তথ্য জানিয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র।

সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের চলমান বা “ডায়নামিক” লক্ষ্যগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুতগতির ছোট আক্রমণকারী নৌযান, মাইন পেতে সক্ষম জাহাজ এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম, যা ব্যবহার করে ইরান কৌশলগত জলপথগুলো নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরা হচ্ছে হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণ আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরে ইরানের সামরিক উপস্থিতি দুর্বল করা। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চেষ্টাকেও প্রভাবিত করছে।

এর আগে মার্কিন বাহিনী ইরানের নৌ সক্ষমতাকে লক্ষ্য করলেও, প্রথম ধাপে হামলা মূলত প্রণালি থেকে দূরের স্থাপনাগুলোতে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে নতুন পরিকল্পনায় কৌশলগত এই জলপথের আশপাশে আরও সরাসরি ও ব্যাপক হামলার চিন্তা করা হচ্ছে।

এদিকে, পূর্ববর্তী হামলার পরও ইরানের অনেক উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং বিপুলসংখ্যক ছোট নৌযান অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা সহজ হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের: ইরানের তেলক্ষেত্রে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সমপরিমাণ পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট। ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে এ খবর জানা গেছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাঈল সাকাব এসফাহানি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ যদি আবারও কোনো ভুল করে, তবে আমাদের কৌশল হবে ‘চোখের বদলে চোখ’। আমাদের কোনো তেলকূপে আঘাত করা হলে, যেদেশের মাটি ব্যবহার করে আমাদের ওপর আক্রমণ চালানো হবে, সেই দেশের তেল স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’

তেহরানের আলোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে সাকাব এসফাহানি আরও বলেন, আলোচনার টেবিলে ইরানের প্রতিনিধি দল ‘শত্রুর কলার চেপে ধরেছে’।

দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ইরানিদের দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, এ বিষয়ে সব ধরনের ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিভিন্ন তেলক্ষেত্রে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সুপেয় পানির প্ল্যান্টগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ারও বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লো: ইসরায়েল এবং লেবানন তাদের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়াতে সম্মত হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর ট্রাম্প এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ইসরায়েলি ও লেবাননি প্রতিনিধিদের মধ্যকার এই আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ওয়াশিংটনে সরাসরি বৈঠকে বসার আশা করছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতির বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এই বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের এক পর্যায়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হলেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই সংলাপ একটি বড় পদক্ষেপ। 

ইরান চাইলে ভালো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরানের সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। তারা চাইলে একটি ভালো ও চৌকস চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে আজ শুক্রবার এক যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে হেগসেথ এ কথা বলেন। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে অবস্থিত পেন্টাগনে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। হেগসেথ জানান, ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৪টি জাহাজকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবরোধ আরও কঠোর হচ্ছে। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। এখন আর কোনো কিছুই (ইরানের বন্দরের) ভেতরে ঢুকবে না বা বাইরে আসবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই অবরোধ কেবল বিস্তৃত হচ্ছে না, বরং এটি এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে।’

হেগসেথ সাফ জানিয়ে দেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধ বজায় থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে অফুরন্ত সময় আছে এবং আমরা চুক্তি করার জন্য মোটেও উদ্বিগ্ন বা তাড়াহুড়ো করছি না।’


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন