Logo

আন্তর্জাতিক

পৃথিবীর ৬ দেশে দীর্ঘদিন সূর্য অস্ত যায় না

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২৮

মানুষের দৈনন্দিন জীবন ২৪ ঘণ্টার একটি চক্রে আবর্তিত হয়। সেখানে সাধারণত ১২ ঘণ্টা সূর্যের আলো থাকে এবং বাকি সময়টুকু রাত। কিন্তু পৃথিবীতে এমন জায়গা আছে যেখানে টানা ৭৩ দিন সূর্য ডোবে না। স্থানীয় লোকজন যেখানে টানা ৭৩ দিন সূর্যাস্ত না দেখে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেন, সেখানে পর্যটকদের জন্য বিষয়টি কতটা রোমাঞ্চকর বা বিভ্রান্তিকর হতে পারে, তা কল্পনা করাও কঠিন! হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়েছেন। পৃথিবীর এমন ছয়টি স্থান রয়েছে যেখানে সূর্য দীর্ঘদিন অস্ত যায় না। 

নরওয়ে: নরওয়ে সুমেরুবৃত্তে অবস্থিত। একে নিশীথ সূর্যের দেশ বলা হয়। এখানে মে মাস থেকে জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত সূর্য কখনোই অস্ত যায় না। প্রায় ৭৩ দিন এখানে কোনো রাত হয় না। নরওয়ের সভলবার্ডে টানা ৭৩ দিন পর্যন্ত সূর্য অবিরাম আলো দেয়। এটি ইউরোপের উত্তরতম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল। আপনি যদি রাতের অস্তিত্বহীন কোনো দিন যাপন করতে চান, তবে এই সময়ে এখানে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন।

কানাডা: কানাডার উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের এই স্থানটি সুমেরুবৃত্ত থেকে প্রায় দুই ডিগ্রি ওপরে অবস্থিত। নুনাভুতে বছরের প্রায় দুই মাস ২৪ ঘণ্টা সূর্যের আলো থাকে। ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যায় শীতকালে; তখন এই অঞ্চলে টানা ৩০ দিন সম্পূর্ণ অন্ধকার থাকে।

আইসল্যান্ড: গ্রেট ব্রিটেনের পর আইসল্যান্ড ইউরোপের বৃহত্তম দ্বীপ। মশা নেই এমন দেশ হিসেবেও দেশটির খ্যাতি রয়েছে। গ্রীষ্মকালে আইসল্যান্ডের রাতগুলো বেশ পরিষ্কার থাকে, তবে জুন মাসে এখানে সূর্য অস্ত যায় না। পূর্ণ মহিমায় নিশীথ সূর্য দেখতে চাইলে আপনি সুমেরুবৃত্তের আঙ্কুরেরি শহর এবং গ্রিমসে দ্বীপ ভ্রমণ করতে পারেন।

আলাস্কা: আলাস্কার ব্যারোতে মে মাসের শেষ থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত সূর্য ডোবে না। প্রকৃতির এই অদ্ভূত ভারসাম্য বজায় রাখতে আবার নভেম্বরের শুরু থেকে পরবর্তী ৩০ দিন এখানে সূর্য ওঠে না, যাকে পোলার নাইট বা মেরু রাত্রি বলা হয়। সেখানে তীব্র শীতের মাসগুলোতে এই অঞ্চলটি সম্পূর্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে। তুষারাবৃত পাহাড় ও মন্ত্রমুগ্ধকর হিমবাহের জন্য পরিচিত এই স্থানে আপনি গ্রীষ্ম বা শীতে যেতে পারেন।

ফিনল্যান্ড: হাজার হ্রদ ও দ্বীপের দেশ ফিনল্যান্ডের অধিকাংশ অংশে গ্রীষ্মকালে টানা ৭৩ দিন সূর্যের দেখা মেলে। এই সময়ে সূর্য অবিরাম আলো দেয়, অথচ শীতকালে এখানে সূর্যালোকের দেখা পাওয়া ভার। এই কারণেই এখানকার মানুষ গ্রীষ্মে খুব কম এবং শীতে অনেক বেশি সময় ধরে ঘুমায়। এখানে ভ্রমণে গেলে আপনি নর্দার্ন লাইটস বা মেরুজ্যোতি দেখার পাশাপাশি স্কিইং এবং গ্লাস ইগলোতে থাকার অনন্য অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।

সুইডেন: মে মাসের শুরু থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত সুইডেনে মাঝরাতের দিকে সূর্যাস্ত হয় এবং ভোর ৪টার দিকে পুনরায় সূর্যোদয় ঘটে। এখানে বছরের প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত অবিরাম সূর্যালোক থাকতে পারে। দীর্ঘ দিনের এই সুযোগে পর্যটকেরা গলফ খেলা, মাছ ধরা, ট্রেকিং ও বিভিন্ন রোমাঞ্চকর কর্মকাণ্ডে নিজেদের ব্যস্ত রাখতে পারেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন