ইরানের ৫০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দের দাবি করল যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রায় ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল সম্পদ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ দাবি করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’র প্রভাবে তেহরান সরকার এখন ‘সংকটে’র মুখে পড়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ (ইরানের) কবজায় নিতে পেরেছি। এর আগে আরও ১০ কোটি ডলার জব্দ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি ডলারের কাছাকাছি সম্পদ আমাদের নিয়ন্ত্রণে। এ ছাড়া আমরা বিভিন্ন স্থানে ইরানি ব্যাংক হিসাবগুলোও জব্দ করছি।’
মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরও জানান, গত বছরের মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে তিনি ইরানের ওপর ‘চাপ আরও বাড়ানোর’ জন্য আবার আদেশ দেন।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে এখন বিদেশি সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রসঙ্গে বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা ইরানি তেলের ক্রেতাদের জানিয়ে দিয়েছি যে, কোনো দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক যদি ইরানি তেলের লেনদেন করে, তবে আমরা তাদের বিরুদ্ধেও সেকেন্ডারি স্যাংশন আরোপ করব।’
বেসেন্ট মনে করেন, এ অর্থনৈতিক অভিযান এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি বয়ে আনবে।
অবশ্য আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযানকে উপহাস করে বলেছে, এর ফলে উল্টো তেলের দাম আরও বাড়বে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘অসার’ বা ‘আবর্জনা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
লেবাননের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই-ইসরায়েলি সেনাপ্রধান: লেবাননের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির। দেশটিতে ইসরায়েলের হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত থাকার মধ্যেই তিনি এ কথা বললেন।
দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন ইসরায়েলি সেনাদল পরিদর্শনে গিয়ে ইয়াল জামির বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতৃত্ব আমাদের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তা হলো, এমন একটি অবস্থানে থাকা যেন (ইসরায়েলি) জনপদগুলোতে সরাসরি কোনো হামলা না হয়। আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছেছি এবং বর্তমানে এ অবস্থানেই আছি। আমাদের হয়তো এখানেই অবস্থান করতে হবে।’
সেনাদের উদ্দেশে ইয়াল জামির আরও বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। আপনাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। উত্তর ইসরায়েলের জনপদগুলো থেকে সরাসরি ও পরোক্ষ হুমকি দূর করতে হবে। সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো ধ্বংস ও তাঁদের খুঁজে বের করে নির্মূল করতে হবে।’
গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত দুই হাজার ২৯০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশজুড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১২ লাখ মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ–অবরোধে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে না তেহরানের: ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও দেশটির জ্বালানি সরবরাহ বা বিতরণে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করেছেন ইরানের তেলমন্ত্রী মহসিন পাকনেজাদ। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।
তেলমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের বিঘ্ন এড়াতে তেল খাতের কর্মীরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন।
গত ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এ মার্কিন অবরোধের ফলে ইরানে তেল মজুতের সক্ষমতা ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মজুত সংকটে ইরান শেষ পর্যন্ত তেল উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে।
আরব আমিরাতের ওপেক ছাড়ার সিদ্ধান্ত চমৎকার-ট্রাম্প: সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক ত্যাগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ পদক্ষেপকে ‘চমৎকার’ হিসেবে আখ্যায়িত এবং এর ফলে তেলের বাজার স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, আমিরাতের এ সিদ্ধান্তের ফলে তা কমতে পারে। এর প্রভাবে জ্বালানি তেল ও পেট্রলের (গ্যাসোলিন) দামও কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, শেষ পর্যন্ত এটি পেট্রল ও তেলের দাম কমানোর জন্য ভালো একটি উদ্যোগ হবে। সবকিছুই এর মাধ্যমে সস্তায় পাওয়া সম্ভব হবে।’
উল্লেখ্য, আরব আমিরাত হঠাৎ করেই ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ওই ঘোষণা দিয়েছে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে এটি বড় ঘটনা। ১৯৭১ সালে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগে থেকেই তারা ওপেকের সদস্য ছিল।
উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর এই সংগঠন কয়েক দশক ধরে উৎপাদন বাড়ানো-কমানো এবং সদস্যদের জন্য কোটা নির্ধারণের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করেছে। ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটে ওপেকের ভূমিকার কল্যাণে বৈশ্বিক জ্বালানিনীতি আমূল বদলে যায়।
ওপেকের উৎপাদনে সৌদি আরবের প্রাধান্য থাকলেও অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার দিক থেকে ইউএই ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। অর্থাৎ বাজারে দাম কমাতে প্রয়োজন হলে উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর সক্ষমতা ছিল তাদের।
ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে সহায়তার প্রস্তাব পুতিনের, জানালেন ট্রাম্প: ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিশেষ করে ইরানের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ওয়াশিংটনকে সহায়তা করতে চায় মস্কো।
বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে ঘণ্টা দেড়েক কথা হয়। সেখানেই পুতিন এমন আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প।
ওভাল অফিস থেকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (পুতিন) সহায়তা করতে চান। কিন্তু আমি বলেছি, আমাকে সহায়তা করার আগে আপনার নিজের যুদ্ধ শেষ করতে হবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তিনি (পুতিন) আমাকে বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে চলা প্রক্রিয়ায় তিনি যুক্ত হতে চান। এ বিষয়ে তিনি আমাদের সহায়তা করতে পারেন।’
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে তার ‘খুবই ফলপ্রসু’ আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেন সংঘাতের একটি সমাধান দ্রুতই আসতে পারে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

