শতবর্ষে রাজা-রানির ভালোবাসা শিক্ত স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ২১:১৮
স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো
বিশ্ববিখ্যাত প্রকৃতিবিদ, পরিবেশবাদী এবং প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো শতবর্ষে পদার্পণ করেছেন। তাঁর এই অনন্য মাইলফলক উপলক্ষে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলাসহ বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিরা তাঁকে আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন। ১৯২৬ সালের ৮ মে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করা এই ব্যক্তিত্বের জীবন ও কর্মকে সম্মান জানাতে লন্ডনের ঐতিহাসিক রয়্যাল আলবার্ট আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি বিশেষ কনসার্টের আয়োজন করা হয়।
বাকিংহাম প্যালেস থেকে পাঠানো এক বার্তায়
রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা স্যার ডেভিডকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাজপরিবারের
ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ১৯৫৮ সালের একটি দুর্লভ ছবি শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে দেখা
যাচ্ছে তরুণ প্রিন্স চার্লস ও প্রিন্সেস অ্যানকে ককাটু পাখির সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন
অ্যাটেনবরো।
রাজা ও রানি বার্তায় লিখেছেন, "আপনাকে
জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আজ সন্ধ্যার বিশেষ উদ্যাপন উপভোগ করুন!"
জন্মদিন উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছ
থেকে পাওয়া হাজার হাজার বার্তায় স্যার ডেভিড 'পুরোপুরি অভিভূত' হয়ে পড়েছেন। এক ভিডিও
বার্তায় তিনি বলেন, "সবাইকে আলাদাভাবে উত্তর দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব, তবে আপনাদের
সুন্দর বার্তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যাঁরা স্থানীয়ভাবে আমার জন্মদিন
উদ্যাপন করছেন, তাঁদের সবার দিনটি ভালো কাটুক।"
ইংল্যান্ড ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড
বেকহ্যাম অ্যাটেনবরোকে 'জাতীয় সম্পদ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, প্রিন্স হ্যারি
(ডিউক অফ সাসেক্স) তাঁকে এক প্রবন্ধে 'সেক্যুলার সেন্ট' বা ইহজাগতিক সাধু বলে বর্ণনা
করেছেন। হ্যারি বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা যে দূরের কোনো বিষয় নয়, বরং আমাদের
দরজায় কড়া নাড়ছে—এই ধারণাটি তিনি মানুষের মধ্যে গেঁথে দিয়েছেন।"
পরিবেশবাদী ও উপস্থাপক ক্রিস প্যাকহামের
মতে, মানব প্রজাতির ইতিহাসে পৃথিবীর প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা তৈরিতে অ্যাটেনবরোর
চেয়ে বড় অবদান আর কেউ রাখতে পারেননি। অভিনেতা স্যার ইয়ান ম্যাকেলেন বলেন, "অ্যাটেনবরো
বিবিসি-র আভিজাত্যের প্রতীক। তিনি জটিল বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করার এক
অনন্য ক্ষমতা রাখেন।"
জন্মদিন উদ্যাপনের মূল আকর্ষণ হলো শুক্রবার
রাতের ৯০ মিনিটের বিশেষ কনসার্ট। বিবিসির উপস্থাপক কার্স্টি ইয়াং-এর সঞ্চালনায় এতে
উপস্থিত থাকবেন স্যার মাইকেল প্যালিন, স্টিভ ব্যাকশাল এবং লিজ বনিনের মতো তারকারা।
বিবিসির কনসার্ট অর্কেস্ট্রা অ্যাটেনবরোর বিখ্যাত প্রামাণ্যচিত্র যেমন 'প্ল্যানেট আর্থ'
ও 'ফ্রোজেন প্ল্যানেট'-এর আবহ সংগীত পরিবেশন করবে। এছাড়া 'বাস্টিল' ব্যান্ডের ড্যান
স্মিথ তাঁর জনপ্রিয় গান 'পম্পেই' পরিবেশন করবেন।
স্যার ডেভিডের ১০০তম জন্মদিনকে স্মরণীয়
করে রাখতে ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম চিলির একটি প্যারাসাইটিক ওয়াস্প বা পরজীবী
বোলতার নামকরণ করেছে তাঁর নামে। পতঙ্গটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘Attenboroughnculus tau’। এর আগেও ডাইনোসর, প্রজাপতি এবং ঘাসফড়িংয়ের
বিভিন্ন প্রজাতি তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে।
১৯৫২ সালে বিবিসির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু
করা অ্যাটেনবরো সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীর বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে
চলেছেন। তাঁর 'লাইফ' সিরিজ এবং 'দ্য ব্লু প্ল্যানেট' বিশ্বব্যাপী দর্শকদের প্রকৃতির
প্রতি সচেতন করেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৯৭ সালে স্ত্রী জেনকে
হারিয়েছেন তিনি। তাঁর বড় ভাই ছিলেন অস্কারজয়ী অভিনেতা ও পরিচালক রিচার্ড অ্যাটেনবরো,
যিনি ২০১৪ সালে মারা যান। শতবর্ষী এই কিংবদন্তি এখনো মানুষের অনুপ্রেরণা। তাঁর ক্লান্তিহীন
পরিশ্রমের ফলেই আজকের পৃথিবী জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অনেক বেশি সচেতন
হয়ে উঠেছে।
শতবর্ষের এই শুভক্ষণে বিশ্ববাসী কামনা
করছে, তাঁর হাত ধরে আরও অনেকদিন পৃথিবী রহস্যের উন্মোচন ঘটুক।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

