উত্তপ্ত রণক্ষেত্র
সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় দিবসে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ২১:২৩
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের জয়ের স্মৃতিবিজড়িত ‘বিজয় দিবস’ (ভিক্টরি ডে) উপলক্ষে ঘোষিত বিশেষ যুদ্ধবিরতি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ৮ ও ৯ মে দুই দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও শুরু থেকেই দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে শত শত হামলার অভিযোগ এনেছে।
অন্যদিকে ইউক্রেন আগে থেকেই ৬ মে থেকে
অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিল, যা রাশিয়া উপেক্ষা করেছে বলে কিয়েভের
দাবি।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি
শুরু হওয়ার পর থেকেই ইউক্রেন সীমান্ত ও রুশ ভূখণ্ডে ১০০০-এর বেশি বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন
করেছে। মস্কোর মেয়র সার্গে সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে যুদ্ধবিরতি
কার্যকর হওয়ার প্রথম দুই ঘণ্টার মধ্যেই মস্কোর আকাশে অন্তত ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করা
হয়েছে। রাশিয়ার দক্ষিণ অঞ্চলের ১৩টি বিমানবন্দরে বর্তমানে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
মস্কোর রেড স্কয়ারে শনিবারের কুচকাওয়াজ
ব্যাহত করার চেষ্টা করলে কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে ‘বিশাল ও প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’র
হুমকি দিয়েছে ক্রেমলিন। এমনকি নিরাপত্তার খাতিরে কিয়েভে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের
৯ মে-র আগে শহর ছাড়ার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। দুই দশকের মধ্যে এবারই প্রথম মস্কোর বিজয়
দিবসের কুচকাওয়াজে কোনো ভারী সামরিক সরঞ্জাম বা হার্ডওয়্যার থাকছে না, যা রাশিয়ার
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার উদ্বেগকে আরও স্পষ্ট করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক টেলিগ্রাম বার্তায় রাশিয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির প্রথম কয়েক ঘণ্টায় ইউক্রেনীয় অবস্থানগুলোতে ১৪০টির বেশি হামলা এবং ৮৫০টির বেশি ড্রোন ছুড়েছে রাশিয়া।
জেলেনস্কি বলেন, "রাশিয়ার দিক থেকে যুদ্ধবিরতি পালনের কোনো সদিচ্ছাই দেখা যায়নি।
সুমি অঞ্চলে একটি কিন্ডারগার্টেনে রুশ ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন।"
জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রতিটি
হামলার কড়া জবাব দেওয়া হবে। রণক্ষেত্রে যখন বারুদের গন্ধ, তখন কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা
গেছে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার কণ্ঠে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে
দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনার একটি ‘সম্ভাবনা’ তৈরি হয়েছে এবং এতে জেলেনস্কির
সমর্থন রয়েছে। কস্তা আরও বলেন, "রাশিয়া আমাদের প্রতিবেশী, আমরা ভূগোল পরিবর্তন
করতে পারব না। ইউরোপের নিরাপত্তার খাতিরেই আমাদের রাশিয়ার সাথে কথা বলতে হবে।"
এর প্রেক্ষিতে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি
পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়া সংলাপের জন্য প্রস্তুত, তবে মস্কো নিজে থেকে আলোচনার কোনো
প্রস্তাব দেবে না। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন
মধ্যস্থতা করতে রাজি থাকলেও সময় নষ্ট করতে চায় না। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই কিয়েভ অঞ্চলের
চেরনোবিল পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিষিদ্ধ এলাকায় এক ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। শুষ্ক
আবহাওয়া ও প্রচণ্ড বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে ১১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা গ্রাস করেছে।
রণক্ষেত্রে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনগুলোর কারণে দমকল কর্মীরা আগুনের কাছে পৌঁছাতে পারছেন
না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিজয় দিবসের প্রাক্কালে ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতি
রাশিয়ার অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলেছে। মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের
বাসিন্দাদের জানানো হয়েছে যে, নিরাপত্তার কারণে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে
সীমিত রাখা হতে পারে। সব মিলিয়ে এক অস্থির ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে
ইউক্রেন ও রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

