ব্যর্থতার অভিযোগে লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ২১:২৫
এভিকা সিলিনা
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল বাল্টিক দেশ লাটভিয়ার রাজনীতিতে। রাশিয়ার উদ্দেশ্যে ছোড়া ইউক্রেনীয় ড্রোন পথ হারিয়ে লাটভিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া এবং তা নিয়ে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা সংকটের জেরে পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এভিকা সিলিনা। বৃহস্পতিবার এই নাটকীয় পদত্যাগের পর ভেঙে পড়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন জোট সরকার। গত ৭ মে তিনটি ড্রোন লাটভিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে।
লাটভিয়া ও ইউক্রেন—উভয় দেশই স্বীকার
করেছে যে, ড্রোনগুলো সম্ভবত ইউক্রেনীয় ছিল এবং রাশিয়ায় হামলার উদ্দেশ্যে পাঠানো
হয়েছিল। তবে রুশ সিগন্যাল জ্যামিংয়ের কারণে সেগুলো পথভ্রষ্ট হয়ে লাটভিয়ায় ঢুকে
পড়ে।
একটি ড্রোন খোলা জায়গায় আছড়ে পড়লেও অন্যটি
রেজিকনে শহরের কাছে একটি খালি তেল সংরক্ষণাগারে আঘাত হানে। তৃতীয়টি আকাশসীমা দিয়ে উড়ে
চলে যায়। যদিও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ—ড্রোনের
পতনের এক ঘণ্টা পরও সরকারি জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা সচল হয়নি, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভ
তৈরি করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগে গত সপ্তাহে দেশটির প্রতিরক্ষা
মন্ত্রী আন্দ্রিস স্প্রুডসকে বরখাস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী সিলিনা।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কোথাও
কোনো বড় ভুল হয়েছে। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না।" তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে,
লাটভিয়া তার জিডিপি-র ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে, তাই জনগণের প্রতি সরকারের
দায়বদ্ধতা অনেক বেশি। তবে স্প্রুডসের দল 'প্রগ্রেসিভস' এই সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে জোট
সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের আগেই
ভেঙে পড়ে সিলিনার নেতৃত্বাধীন চার দলীয় কোয়ালিশন।
বৃহস্পতিবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এভিকা
সিলিনা বলেন, "প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পদের জন্য একজন যোগ্য প্রার্থী পেয়েও কিছু রাজনৈতিক
‘বায়ুভুক’ সংকটের
পথ বেছে নিয়েছে। আমি পদত্যাগ করছি, কিন্তু হার মানছি না।" লাটভিয়ার প্রেসিডেন্ট
এডগারস রিঙ্কেভিক্স জানিয়েছেন, আগামী ১৫ মে তিনি দ্রুত নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া
নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া
সিলিনা শুরু থেকেই ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ড্রোনের এই অনুপ্রবেশ
এবং নিরাপত্তা গাফিলতির বিষয়টি শেষ পর্যন্ত তাঁর মসনদ কেড়ে নিল। বাল্টিক অঞ্চলের দেশ
হিসেবে লাটভিয়া রাশিয়ার আগ্রাসনের আশঙ্কায় দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগে রয়েছে। ড্রোনের এই
ঘটনা সেই নিরাপত্তাহীনতাকে আরও উসকে দিল, যা সরাসরি আঘাত করল দেশটির প্রশাসনিক কাঠামোতে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

