Logo

আন্তর্জাতিক

ইরানে ফের বড় হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ২১:০৩

ইরানে ফের বড় হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওয়াশিংটন ও তেহরান গত মাসে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে। গত সপ্তাহে ইরান এবং আমেরিকা উভয়েই একে অপরের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে। এদিকে, গত মাসের যুদ্ধবিরতির পর ইরানের ওপর আবারও বড় ধরনের হামলা চালানোর লক্ষ্যে সবচেয়ে ‘জোরালো প্রস্তুতি’ শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও  ইসরায়েল। 

আর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের ‘কোনো আস্থা নেই’। তেহরান কেবল তখনই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী যদি যুক্তরাষ্ট্র ‘সিরিয়াস’ হয় (সত্যিকারের আন্তরিক) হয়। এছাড়াও উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলার জবাবে যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সৌদি আরব ও কাতারকে রাজি করাতে চেষ্টা করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তবে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল বলে গতকাল শুক্রবার ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট গত শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইরানে ফের বড় হামলার প্রস্তুতি: মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শুরু হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য এই অভিযানে ইরানের মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া পরমাণু সরঞ্জামগুলো উদ্ধারের জন্য সরাসরি কমান্ডো বাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত জটিল এবং প্রাণহানির উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। কারণ, অভিযান এলাকায় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং সেখানে ইরানি স্থলবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এছাড়া অন্য একটি বিকল্প হিসেবে ইরানের সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ ও নিবিড় বোমাবর্ষণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া, দেশটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির হুমকি দূর করা এবং ইরানি জনগণকে বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ‘পরিবেশ তৈরি’ করে দিতেই তারা এই অভিযান শুরু করেছিল। তবে গত মাসের যুদ্ধবিরতির ফলে তাদের ঘোষিত সেই লক্ষ্যগুলো এখনো অপূর্ণ থেকে গেছে। সেই লক্ষ্যগুলো পূরণ করতেই পুনরায় হামলার এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াস হলে আলোচনায় প্রস্তুত ইরান: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের ‘কোনো আস্থা নেই’। তেহরান কেবল তখনই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী যদি যুক্তরাষ্ট্র ‘সিরিয়াস’ হয় (সত্যিকারের আন্তরিক) হয়।

গত শুক্রবার ভারতের নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে আরাকচি বর্তমানে দিল্লি সফরে রয়েছেন।

আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরস্পরবিরোধী বার্তা’ ওয়াশিংটনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে ইরানের মনে সন্দেহ তৈরি করেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়নি, তবে ‘কঠিন পরিস্থিতির’ মধ্যে রয়েছে।

কূটনীতিকে একটি সুযোগ দিতে ইরান এখনো যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে, তবে তারা আবারও লড়াইয়ে ফিরে যেতেও প্রস্তুত বলে জানান আরাগচি।

বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার বিষয়ে তেহরান সম্মত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাদের সাহায্য করার সক্ষমতা রয়েছে এমন যেকোনো দেশের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানায় ইরান।

ইরানের প্রতিরোধের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান তার জনগণের বিরুদ্ধে চালানো এক নৃশংস যুদ্ধ প্রতিরোধ করেছে। তারা তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। এটা স্পষ্ট যে, তারা সামরিকভাবে যা অর্জন করতে পারেনি, তা আলোচনার টেবিলে বসেও অর্জন করতে পারবে না।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা এখনও ব্যর্থ হয়নি। তবে আমেরিকানদের আচরণ এবং দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান আস্থাহীনতার কারণে এটি অত্যন্ত কঠিন পথ পাড়ি দিচ্ছে। এ সময় তিনি চীনের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, আমরা যেকোনো দেশের সহায়তাকে স্বাগত জানাই, বিশেষ করে চীন। চীন অতীতে ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। চীনের সাথে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমরা কৌশলগত অংশীদার এবং আমরা জানি যে চীনাদের উদ্দেশ্য ভালো। তাই কূটনীতিতে তারা যা করতে পারবে, তা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান স্বাগত জানাবে।

ইরানে হামলায় সৌদি-কাতারকে রাজি করাতে পারেনি আমিরাত: উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলার জবাবে যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সৌদি আরব ও কাতারকে রাজি করাতে চেষ্টা করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তবে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল বলে গতকাল শুক্রবার ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ আগ্রাসন চালানোর পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার ফোনে কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে। ২০২১ সালে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ চুক্তির অধীনে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে এই প্রতিশোধের মূল ধাক্কাটা সামলাতে হয়েছে। দেশটির ওপর প্রায় তিন হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য নেতা ইরানের ওপর সমন্বিতভাবে হামলা চালানোর বিষয়ে মোহাম্মদ বিন জায়েদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। এই প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করে দেয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কীভাবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে উপসাগরীয় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের এক হওয়ার কথা ছিল। এখন জানা যাচ্ছে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয় দেশই ইরানের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছিল। তবে তারা তা করেছিল যার যার মতো আলাদাভাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের হামলাগুলো ছিল নিয়ন্ত্রিত এবং দেশটি দ্রুতই তার মিত্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার দিকে মনোযোগ দেয়।

ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট গত শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ২ ও ৩ জুন ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চতুর্থ দফার শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৩ মে) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফায় সরাসরি বৈঠক শুরু হয়। লেবাননের প্রতিনিধিদলে ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত সাইমন কারাম, রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মুআওয়াদ এবং সামরিক কর্মকর্তারা। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের লেবানন ও ইসরায়েলবিষয়ক দূত মিশেল ইসা এবং মাইক হাকাবি উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৬ এপ্রিল সীমান্তে চরম উত্তেজনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে প্রথম ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই দফায় বাড়ানো হয়।

তবে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে মাঠপর্যায়ের সংঘর্ষ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৯৫১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এই দীর্ঘ সংঘাত ও হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৮ হাজার ৯৮৮ জন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণার পরেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দখলদার দেশটির বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন প্যারামেডিক। আহত হয়েছেন আরও এক প্যারামেডিক। তার অবস্থাও গুরুতর। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

গতকাল দক্ষিণ লেবাননের হারুফ শহরের একটি সিভিল ডিফেন্স সেন্টারে এ হামলা চালানো হয়। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। 

ইসরায়েলি হামলায় হামাসের সশস্ত্র প্রধান নিহত: ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী গতকাল শনিবার জানিয়েছে, গাজায় বিমান হামলায় তারা হামাসের সামরিক শাখার প্রধান এজেদ্দিন আল-হাদ্দাদকে হত্যা করেছে। হামাসের কর্মকর্তারাও আল-হাদ্দাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হামাসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণকারী আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। 

গতকাল মধ্য গাজার আল আকসা শহীদ মসজিদে হাদ্দাদ, তার স্ত্রী এবং ১৯ বছর বয়সী মেয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে আল-হাদ্দাদের স্ত্রী ও সন্তান কীভাবে মারা গেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে সেটি জানা যায়নি। স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, ইসরায়েল শুক্রবার গাজায় অন্তত দুটি হামলা চালিয়েছে, এতে তিন নারী ও এক শিশুসহ সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এদিকে, গত শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তাদের সামরিক বাহিনী হামাস নেতাকে লক্ষ্য করে একটি বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে বিবৃতিতে আল-হাদ্দাদের নিহতের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। 

হরমুজ এড়াতে নতুন পাইপলাইন করছে আমিরাত: ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন একটি পাইপলাইন চালুর মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানি সক্ষমতা দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত শুক্রবার আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইনটির নির্মাণকাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। অ্যাডনক জানিয়েছে, পাইপলাইনটির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

বর্তমানে আমিরাতের হাবশান-ফুজাইরা পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করা যায়। নতুন এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আমিরাত হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেই এর দ্বিগুণ পরিমাণ তেল বিশ্ববাজারে পাঠাতে পারবে। ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় এই বিকল্প পথটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে দেশটি।

উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিদিন প্রায় ৩৪ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। তবে ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এবং এই জলপথে চলাচলের ওপর নিজস্ব নিয়ম আরোপ করার পর আমিরাতের তেল রপ্তানি প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এই অতিরিক্ত পাইপলাইনটি নির্মাণ শেষ হলে সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেই কার্যত তাদের যুদ্ধের আগের পুরো সক্ষমতা অনুযায়ী তেল রপ্তানি করতে পারবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির লক্ষ্য আরও বড়; ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে চায় তারা।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন