যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আকস্মিক হামলা চালায়। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি এবং স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামরা চালায় ইরান। পরবর্তীতে গত ৯ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলে সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধ হয়। তবে সেই যুদ্ধবিরতি এখন চরম হুমকির মুখে। এখনো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে, পশ্চিম এশিয়ার গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানে আবার সামরিক অভিযান করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তারা। প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সেই অভিযানের নামও ঠিক করেছেন। এর নাম হবে ‘এপিক ফিউরি ২.০’। প্রসঙ্গত,গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে যে অভিযান চালিয়েছিল আমেরিকা তার নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’। সূত্রের খবর, পেন্টাগন ইরানে দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত শনিবার সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পছন্দের যুদ্ধে’র ফলে দেশটিকে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে সংঘাতের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ভার আমেরিকানদের বহন করতে বাধ্য হতে হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বিরোধ মেটাতে শুরু থেকেই সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। গত মাসেই দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করেছিল ইসলামাবাদ। এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির স্থবিরতা কাটাতে এবং থমকে থাকা শান্তি আলোচনা সচল করতে আকস্মিক ইরান সফরে গেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। গত শনিবার দুই দিনের সরকারি সফরে তিনি তেহরানে পৌঁছান বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম।
দ্বিতীয় দফা বৈঠক শান্তির পথ খুলতে পারে- শাহবাজ শরিফ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি আলোচনা একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য-বিবৃতি বাড়লেও পাকিস্তান এখনো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান, মার্কিন প্রশাসন থেকে শুরু করে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো—সব পক্ষেরই আস্থা পাকিস্তানের ওপর রয়েছে।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘শান্তি সহজে অর্জিত হয় না; এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা।’
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দুই দেশের চলমান আলোচনা মূলত ‘বিশ্বাস সংকটে’ ভুগছে। ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস না করার সব কারণই ইরানের আছে। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আমেরিকানদের রয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের চলমান আলোচনা মূলত ‘বিশ্বাস সংকটে’ ভুগছে।
ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষায় মার্কিন-ইসরায়েল: চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় কোনো সফলতা আসেনি সিএনএন জানিয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবুজ সংকেত দিলেই হামলা শুরু হবে। তবে ট্রাম্প হামলার আগে হিসাব কষছেন। কারণ ইরান যুদ্ধের প্রভাব কেবল সামরিক বাহিনীতে নয়, অর্থনীতিতেও পড়েছে। এর আঘাত বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মার্কিনিদের। অন্যদিকে ইরানও বিধ্বংসী প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ধস নামানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সব রকম সম্ভাবনার জন্যই পৃথক পরিকল্পনা করে রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগীরা। কীভাবে সেই হামলা হতে পারে, আগের চেয়ে হামলার ধরনে কোনো পরিবর্তন করা হবে কি না, তা-ও আলোচনায় রয়েছে। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করে চলেছে পাকিস্তানসহ একাধিক দেশ। তাদের প্রতিনিধিরাও হোয়াইট হাউজের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ইরানকে হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা চলছে। যদি তা সম্ভব হয়, তবে ট্রাম্প সেটাকে নিজের জয় বলে প্রচার করতে পারবেন। ইরানে লাখ লাখ ডলার খরচ করার এই যুদ্ধ অনেক আমেরিকান ভোটারই ভালো চোখে দেখছেন না। তাই তাদের সামনে যুদ্ধের কোনো না কোনো সাফল্য তুলে ধরতে চান ট্রাম্প। তার নীতি যে ব্যর্থ হয়নি, তা প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ইরানের জন্য খারাপ সময় অপেক্ষা করছে- ট্রাম্প: ইরান যদি দ্রুত একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে দেশটির জন্য সামনে ‘খুব খারাপ সময়’ অপেক্ষা করছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুমকি দেন।
ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একটি সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কেবল আমেরিকার নয়, বরং ইরানের নিজেদেরও বড় ধরনের স্বার্থ রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন যে, নতুন করে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বার্তা পেয়েছে তেহরান। তবে আরাগচি একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং তাদের ‘সাংঘর্ষিক বার্তার’ কারণে মার্কিনদের ওপর এখনো ইরানের গভীর ‘অবিশ্বাস’ ও সংশয় রয়ে গেছে। উল্লেখ্য, এর আগে দুই দেশের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যখনই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই আকস্মিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানি ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়ে সেই আলোচনা প্রক্রিয়া নস্যাৎ করে দিয়েছিল। ফলে অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা তেহরানকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান নিয়ে খুব শীঘ্রই বড় এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ওয়াশিংটনের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টারা ইতিমধ্যে নতুন করে অভিযানের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছেন, যাতে ট্রাম্প চাইলে আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙতে ইরানে আরও ব্যাপক আকারে বোমা হামলার অনুমোদন দিতে পারেন। তবে উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তার চূড়ান্ত পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে এখনো কোনো শেষ সিদ্ধান্ত নেননি।
ইসরায়েলি হামলায় স্ত্রী-কন্যাসহ হামাসের সামরিক শাখাপ্রধান নিহত: গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়ে হামাসের সামরিক শাখার প্রধান এজেদ্দিন আল-হাদ্দাদকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। পরে হামাসও এক বিবৃতিতে তার নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। হামলায় ইজ্জ আল-দিনের স্ত্রী ও ১৯ বছর বয়সী মেয়েও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, গত শুক্রবার গাজা নগরীতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে এই শীর্ষ হামাস নেতাকে হত্যা করা হয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ইসরায়েল ও হামাস। তবে সেই সমঝোতার মধ্যেও গাজায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার ছিল ফিলিস্তিনিদের ‘নাকবা দিবস’-এর ৭৮তম বার্ষিকী। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনার স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। এদিনই হামাসের সামরিক শাখার এই শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হলো।
হামাসের বিবৃতিতে ইজ্জ আল-দিনকে সংগঠনের সামরিক অভিযানের অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৭০ সালে জন্ম নেওয়া এই নেতার জানাজা শনিবার গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-আকসা শহীদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় স্বাস্থ্য সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার গাজায় ইসরায়েলের অন্তত দুটি হামলায় সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী ও দুটি শিশু রয়েছে। ফিলিস্তিনি সূত্রের দাবি, একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলা চালিয়ে ইজ্জ আল-দিন ও তাঁর পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে।
তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দুই দেশের মধ্যকার আলোচনাকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তান টানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির এই সফর। তেহরানে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি। উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েক দিন আগেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফর করেছিলেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বিরোধ মেটাতে শুরু থেকেই সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। গত মাসেই দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করেছিল ইসলামাবাদ।
হরমুজ নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনা ইরানের: হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধকালীন অবরোধকে সফল দাবি করার পর এবার সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবলকে নতুন কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে ইরান। ইউরোপ, এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিপুল ইন্টারনেট ও আর্থিক তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন কেবলগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। রোববার এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান এখন হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল ব্যবহারের জন্য বিশ্বের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, অর্থ পরিশোধ না করলে এসব ক্যাবলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, আমরা ইন্টারনেট ক্যাবলের ওপর ফি আরোপ করব।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানায়, গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা ও অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইরানের আইন মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি সাবমেরিন ক্যাবল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স ফি দিতে হবে এবং ক্যাবল মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার শুধু ইরানি কোম্পানিগুলো পাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রতলের ক্যাবলগুলো বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। এগুলোর মাধ্যমে বিশ্বের অধিকাংশ ডেটা, ব্যাংকিং লেনদেন, সামরিক যোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্লাউড সেবা, অনলাইন গেমিং ও স্ট্রিমিং পরিচালিত হয়। ফলে এসব ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের ডিজিটাল বিপর্যয় ঘটতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থা মোতায়েন: যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) যুদ্ধবিমানে একটি নতুন ‘স্বল্পমূল্যের ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থা’ মোতায়েন করেছে।
এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, নতুন অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম (এপিকেডব্লিউএস) আরএএফ টাইফুন যুদ্ধবিমানে স্থাপন করা হবে। এগুলো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে এবং বর্তমানে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের খরচের তুলনায় তা অনেক কম।
চলমান যুদ্ধে ইরানের বৃহত্তর প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে কয়েক মাস ধরে চলা আঞ্চলিক হামলায় জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনাসহ একাধিক উপসাগরীয় দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর এই ব্যবস্থা মোতায়েন করা হলো।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

