Logo

আন্তর্জাতিক

কৌশলী লেবার পার্টি

অস্ট্রেলিয়ায় জনপ্রিয়তায় শীর্ষে পলিন হ্যানসনের দল

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ২০:৪২

অস্ট্রেলিয়ায় জনপ্রিয়তায় শীর্ষে পলিন হ্যানসনের দল

পলিন হ্যানসন

অস্ট্রেলিয়ায় ডানপন্থী জনপ্রিয় দল ওয়ান নেশন’-এর জনপ্রিয়তার লাগাম টানতে নতুন রাজনৈতিক কৌশল হাতে নিয়েছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে ওয়ান নেশন নেত্রী পলিন হ্যানসনের অতীতের বিরোধিতাপূর্ণ রেকর্ডকে জনগণের সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি, যাতে হ্যানসনের প্রতি শ্রমজীবী ভোটারদের সমর্থন কমানো যায়।

সম্প্রতি প্রকাশিত রেডব্রিজ গ্রুপ/অ্যাকসেন্ট রিসার্চ’-এর একটি নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, লেবার পার্টিকে পেছনে ফেলে এই মুহূর্তে ওয়ান নেশন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই জরিপ ফলাফল কেবল ঐতিহ্যবাহী রক্ষণশীল দল লিবারেল ও ন্যাশনালস-এর জন্যই নয়, বরং ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভোটব্যাংকের জন্যও এক বিরাট অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে।

জনমত জরিপে ব্যাপক সাফল্যের পর সোমবার ওয়ান নেশন নেত্রী পলিন হ্যানসনকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গণমাধ্যম থেকে প্রশ্ন করা হয়। মাত্র ১৫০ আসনের নিম্নকক্ষে তার দলের আসন সংখ্যা মাত্র দুটি হওয়া সত্ত্বেও তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে টুজিবি রেডিওকে বলেন, "আমার কি সেই যোগ্যতা আছে? বাজি ধরে বলতে পারি, অবশ্যই আছে।"

ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি এখন শ্রমজীবী মানুষের কাছে হ্যানসনের আসল রূপ উন্মোচন করতে চাইছে। দলটির নেতারা বলছেন, হ্যানসন নিজেকে সাধারণ মানুষের ত্রাণকর্তা দাবি করলেও বাস্তবে তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগগুলোর বিরোধিতাই বেশি করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, অস্ট্রেলিয়ার স্বাধীন ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন’ যখন ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, তখন হ্যানসন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি বাস্তবসম্মত মজুরি বৃদ্ধির পক্ষে থাকবেন না। অথচ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সরকার মূল্যস্ফীতির হারের (গত মার্চ পর্যন্ত ৪.২%) চেয়ে বেশি মজুরি বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারের সামাজিক সেবামন্ত্রী তানিয়া প্লিবারসেক বলেন, "যখনই সুযোগ এসেছে, ওয়ান নেশন এমন সব বিষয়ের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যা অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনকে কিছুটা সহজ করতে পারত।"

লেবার পার্টির প্রভাবশালী এমপি মাইক ফ্রিল্যান্ডার মনে করেন, ওয়ান নেশনের সমর্থন এখন চূড়ান্তে পৌঁছেছে এবং সাধারণ নির্বাচনে তারা এই ধারা বজায় রাখতে পারবে না। তবে একই সাথে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ভোটারদের ক্ষোভ প্রশমনে সরকারকে আরও কর ছাড়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, "জনমত জরিপ উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। দেশের মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কর ব্যবস্থার আরও সংস্কার করে মানুষের হাতে ব্যয়ের মতো অতিরিক্ত অর্থ নিশ্চিত করতে হবে।"

সরকার ইতিমধ্যেই আয়করের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে, যার ফলে একজন সাধারণ কর্মী বছরে সর্বোচ্চ ২,৮০০ ডলার পর্যন্ত সুবিধা পাবেন। তবে ফ্রিল্যান্ডার মনে করেন, এখানেই থেমে না থেকে আরও বড় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ফেডারেল বাজেটে নেগেটিভ গিয়ারিং (সম্পত্তি বিনিয়োগে কর সুবিধা) এবং ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (মূলধনী লাভ কর)-এর বিতর্কিত পরিবর্তনের কারণে সরকারের জনপ্রিয়তা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে বলে স্বীকার করেছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার।

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের ক্ষোভের মুখে পলিন হ্যানসনকে এখন একটি ঝুঁকিহীন বিকল্প’ মনে করা হচ্ছে। লেবার পার্টির মূল চ্যালেঞ্জ হলো—জনগণকে বোঝানো যে, ওয়ান নেশনের নীতিগুলো সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান তো নয়ই, বরং আরও বড় ঝুঁকি’ তৈরি করবে।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন