‘ফেড’-এর স্বাধীনতা রক্ষায় সতর্ক জেরোম পাওয়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ২০:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ (ফেড)-এর মুদ্রানীতিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ব্যাপারে জোরালো সতর্কবার্তা দিয়েছেন ব্যাংকটির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতায় ক্রমাগত আঘাত হানার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বোস্টনে এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে পাওয়েল বলেন, ট্রাম্প জমানায় অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও একটি কঠিন ‘স্ট্রেস টেস্ট’ বা অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
এদিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট
জন এফ কেনেডির স্মৃতিবিজড়িত বিখ্যাত ‘২০২৬ প্রোফাইল ইন কারেজ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ
করেন জেরোম পাওয়েল। এরপর দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, মার্কিন কংগ্রেস অত্যন্ত
"বিজ্ঞতার সাথে" কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজনৈতিক চাপ থেকে দূরে রেখেছিল এবং
বিশ্বের অন্যান্য উন্নত অর্থনীতিতেও মুদ্রানীতির স্বাধীনতা বজায় রাখার এমন রেওয়াজ রয়েছে।
গত মাসে ফেডারেল রিজার্ভের শীর্ষ পদ থেকে
সরে দাঁড়ানো পাওয়েল সতর্ক করে বলেন, যদি কোনো প্রশাসন নীতিগত মতপার্থক্যের কারণে ফেড
কর্মকর্তাদের অপসারণের পথ তৈরি করে, তবে ভবিষ্যতের প্রশাসনগুলোও একই কাজ করবে। এর ফলে
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেবল সাধারণ আমেরিকানদের কল্যাণের কথা ভেবে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেয়—প্রতিষ্ঠানটির
ওপর থেকে জনগণের এই আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাবে। বহু দশক ধরে গড়ে ওঠা এই বিশ্বাসযোগ্যতা
হারিয়ে গেলে মার্কিন পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল
অর্থনীতি বজায় রাখা ফেড-এর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। চেয়ারম্যানের পদ ছাড়লেও পাওয়েল বর্তমানে
ফেড-এর সাত সদস্যের ‘বোর্ড অব গভর্নরস’-এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুরো ভাষণে জেরোম পাওয়েল সরাসরি প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উচ্চারণ না করলেও, তার ইঙ্গিত ছিল সুষ্পষ্ট। ট্রাম্প দীর্ঘদিন
ধরেই সুদের হার দ্রুত ও ব্যাপকভাবে কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি
করে আসছিলেন। পাওয়েল তার সেই নির্দেশ না মানায় ট্রাম্প তাকে একাধিকবার চাকরি থেকে বরখাস্ত
করার হুমকিও দিয়েছিলেন। এমনকি ট্রাম্পের মনোনীত ও ঘনিষ্ঠ মিত্র জেনিন পিরো ফেড-এর সদর
দপ্তরের সংস্কার কাজ নিয়ে কংগ্রেসে দেওয়া পাওয়েলের এক সাক্ষ্যকে কেন্দ্র করে একটি ক্ষণস্থায়ী
ফৌজদারি তদন্তও শুরু করেছিলেন।
এছাড়া, প্রমাণের অভাব থাকা সত্ত্বেও বন্ধকী
জালিয়াতির অভিযোগে ফেড গভর্নর লিসা কুককে অপসারণের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। তবে সুপ্রিম
কোর্টের রায়ে কুক আপাতত নিজের পদে বহাল আছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল রিজার্ভ অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, কোনো
গভর্নরকে অপসারণ করতে হলে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপকর্ম বা আইনি
বিচ্যুতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে হয়, যা কেবল নীতিগত পার্থক্যের কারণে সম্ভব নয়।
ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব দেওয়ার চেয়ে পাওয়েল
তার ভাষণে সামগ্রিক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় বেশি জোর দেন। তিনি বলেন,
"একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং জরুরি। কিন্তু
দেশের মূল নীতিগুলোর প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত। যার প্রধান শর্ত হলো আইনের
শাসনকে শ্রদ্ধা করা। আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে
নিয়ে যায়।"
উল্লেখ্য, জনসেবায় ব্যক্তিগত বা পেশাগত
পরিণতির তোয়াক্কা না করে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে ১৯৮৯ সাল
থেকে এই ‘প্রোফাইল ইন কারেজ
অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। অতীতে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট
বারাক ওবামা এবং জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের মতো বিশ্বনেতারা।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

