যুদ্ধ বন্ধে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কোনো যৌক্তিকতা নেই: পুতিন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১৬:১৬
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের প্রশ্নে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
জেলেনস্কির মুখোমুখি বসার অনুরোধের জবাবে পুতিন বলেছেন, এই মুহূর্তে এই ধরনের বৈঠকের কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখছেন না।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার জেলেনস্কি একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে পুতিনকে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানান।
চিঠিতে তিনি লেখেন, ২০২২ সালে রাশিয়ার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ যুদ্ধ ফের মার্কিন মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে আসার জন্য অপেক্ষা করে থাকা ভুল হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট একইসঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতিরও অনুরোধ জানান, তবে তার চিঠির ভাষা ছিল বেশ আক্রমণাত্মক ও উপহাসমূলক।
পুতিন এই চিঠিকে ‘অশোভন’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং বৈঠকের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে নিজের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। তার ভাষ্য, যেকোনো যুদ্ধবিরতির আগে অবশ্যই শান্তি চুক্তি হতে হবে।
গত শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় জেলেনস্কির প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে পুতিন বলেন, আমি আপাতত এর কোনো যৌক্তিকতা দেখছি না।
রুশ প্রেসিডেন্ট এটি বলেন, এটি কি মুখোমুখি বৈঠকের পরিবেশ তৈরির উপায় ছিল, নাকি বৈঠক এড়ানোর পথ ছিল? আমার মনে হয় এটি দ্বিতীয়টিই ছিল।
পুতিনের এমন প্রতিক্রিয়ার পর জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া আবারও যুদ্ধকেই বেছে নিচ্ছে।
টেলিগ্রামে তিনি লিখেন, তিনি আসলে যুদ্ধ শেষ করতে চান না। আমার মনে হয়, বিশ্বের অনেকেই তার প্রতিক্রিয়ায় হতাশ হয়েছেন।
জেলেনস্কির চিঠির জবাবে পুতিন তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কেবল ইউক্রেনকে পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ দেবে, অথচ কিয়েভের কাছ থেকে মস্কো যেসব ছাড় চাইছে তা এখনো পূরণ হয়নি।
পুতিন বলেন, ইউক্রেনীয় পক্ষের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অগ্রগতি থামানো। কিন্তু আমাদের এমন চুক্তি দরকার যা তিন বা ছয় মাসের জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি হবে। বিশেষজ্ঞদের কাজ করতে দিন এবং কিছু সমাধান বের করতে দিন। তারপর আমরা বৈঠক করতে পারি।
রুশ প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাশিয়ার লক্ষ্য পূরণ হলেই কেবল তিনি এই যুদ্ধ বন্ধ করবেন।
পুতিন বলেন, আমরা ধরে নিচ্ছি যেকোনো একদিন সামরিক অভিযান শেষ হবে। নিঃসন্দেহে, আমরা নিজেদের জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি তা অর্জিত হলেই এটি শেষ হবে।
রাশিয়ার শর্ত অনুযায়ী, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং নেটোতে যোগদানের সিদ্ধান্ত ত্যাগ করতে হবে।
তবে ভূখণ্ড ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে কিইভ বলছে, মস্কোকে কোনো ছাড় দিলে তা ভবিষ্যতে তাদের আবারও আক্রমণে উৎসাহিত করবে; যেমনটা হয়েছিল ক্রিমিয়া দখলের আট বছর বাদে।
এদিকে জেলেনস্কি তার চিঠিতে পুতিনের বয়স এবং সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনীয় হামলা নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
তবে এই চিঠি ও সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিবাচক আশা প্রকাশ করেছিলেন।
বিবিসি লিখেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা কমেনি। গত শুক্রবার ইউক্রেন পাঁচটি রুশ জাহাজে ড্রোন হামলা চালায়।
আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজভ সাগরে দুটি জাহাজে হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া রুশ ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপের কারণে পথ হারানো একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন রোমানিয়ার কৃষ্ণসাগর বন্দরে বিস্ফোরিত হয়েছে।
একই সময়ে ইউক্রেন জুড়ে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় এক নারীসহ অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৭০ জন আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

