Logo

আন্তর্জাতিক

‎অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা, বন্ধ হচ্ছে যুদ্ধ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:৩২

‎অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা, বন্ধ হচ্ছে যুদ্ধ

যুদ্ধ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক তৎপরতা ‘অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে’ বন্ধের কথা বলা হয়েছে।

‎মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আসা চুক্তির ঘোষণাটি ওয়াশিংটন ও তেহরান নিশ্চিত করেছে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

‎রোববার নিজের ৮০তম জন্মদিন উদযাপনকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।’

‎প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ টোল-মুক্তভাবে চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার অনুমোদন দিচ্ছি এবং একইসঙ্গে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি। বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ চলুক।’

‎এর কিছু পরেই ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের যুদ্ধের ‘অবিলম্বে অবসান’ ঘটিয়েছে এবং একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তির’ লক্ষ্যে তারা আগামী দুই মাসের মধ্যে আলোচনায় বসবেন।

‎অবশ্য মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই লেবাননে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরান প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। এতে চুক্তিটি পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

‎তবে দিনের শেষের দিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে বলেন, উভয়পক্ষই লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করছে।

‎তিনি মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় সমর্থনের জন্য কাতার, সৌদি আরব এবং তুরস্কের নেতাদের ধন্যবাদ জানান।

‎চুক্তির খুঁটিনাটি এখনো অস্পষ্ট: চুক্তির শর্তাদির খুঁটিনাটি এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা জটিল আলোচনা এবং ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পর এই চুক্তি হলেও এর মূল বিষয়গুলো স্পষ্ট নয়।

‎ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের জানিয়েছে, আলোচনা শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করবে।

‎সংস্থাটি দুই দেশের মধ্যে হওয়া ১৪ দফার একটি ‘সমঝোতা স্মারকের’ উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, সমঝোতা স্মারকটি সইয়ের পর শুরু হওয়া ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন ইরানের আরও ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ছাড় দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

‎চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের পারমাণবিক লক্ষ্য অর্জনে বাধা দিতে এবং তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।  

বিশ্বজুড়ে স্বস্তির আশা: চুক্তিটি ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে স্বস্তি নেমে এসেছে এবং মানুষ আশা করছে যে এর মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটবে। জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে এটি একটি বিশাল পদক্ষেপ।

‎যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির মতো ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলো ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তারা বলেছে যে, এই সুযোগটি হাতছাড়া করা উচিত নয় এবং একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য তারা সবার সঙ্গে মিলে কাজ করবে।

‎এই খবরের প্রভাবে সোমবার বিশ্ববাজারেও স্বস্তি দেখা গেছে। টোকিওতে তেলের দাম এক ধাক্কায় ৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে এবং জাপানের শেয়ারবাজার চাঙা হয়ে উঠেছে।

‎হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে বহু দেশে মূল্যস্ফীতি দেখা দেয় এবং চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

‎মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, এই চুক্তির ফলে আমরা জ্বালানি খরচ কমিয়ে আনতে পারব এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অর্থনৈতিক জোয়ার সৃষ্টি হবে। তিনি জানান, জেনেভায় চুক্তি সই অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন এবং সম্ভবত ডোনাল্ড ট্রাম্পও সেখানে যাবেন।

‎ 

‎বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন