স্পেনে তীব্র
তাপপ্রবাহের মাঝে ভয়াবহ দাবানলে ১১ জনের মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ২০:৩৩
গ্রীস্মকালীন তীব্র দাবদাহ ও রেকর্ড তাপপ্রবাহের মাঝেই ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে ইউরোপের দেশ স্পেন। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় আলমেরিয়া প্রদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এক প্রলয়ঙ্কারী দাবানলে পুড়ে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২৩ জন।
নিহতদের মধ্যে অন্তত চারজন ব্রিটিশ নাগরিক
রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যারা জ্বলন্ত আগুন থেকে প্রাণভয়ে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার
সময় অগ্নিফাঁদে আটকা পড়েন। আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে, চলতি গ্রীস্ম মৌসুমে
স্পেনের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দ্বিতীয় দফার তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে বৃহস্পতিবার এই অগ্নিকাণ্ডের
সূত্রপাত হয়।
আন্দালুসিয়া অঞ্চলের জরুরি বিষয়ক মন্ত্রী
আন্তোনিও সাঞ্জ শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিহতরা সবাই আলমেরিয়া প্রদেশের
লস গ্যালার্দোস মিউনিসিপ্যালিটির ‘বেদার’ গ্রামের বাসিন্দা বা পর্যটক। তারা
সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কিংবা নিরাপদ উচ্ছেদ রুট ব্যবহার না করে নিজেদের মতো করে
আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
মন্ত্রী সাঞ্জ বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, নিরাপদ
রুটের বাইরে গিয়ে পাহাড়ি গিরিপথ দিয়ে বিকল্প পথ খোঁজার সিদ্ধান্তটি তাদের জন্য আসল
মৃত্যুফাঁদ প্রমাণিত হয়েছে। একটি ডানহাতি ড্রাইভের গাড়ির ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার
করা হয়েছে, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে তারা ব্রিটিশ নাগরিক। এছাড়া গাড়ি থেকে নেমে পায়ে
হেঁটে পালানোর চেষ্টা করা আরও ৭ জন ভয়াবহ পরিণতির শিকার হয়েছেন। এদের অধিকাংশই বিদেশি
বলে মনে হচ্ছে।
ভৌগোলিক অবস্থান এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকার
কারণে ওই অঞ্চলে ভারী অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি নিয়ে পৌঁছানো দমকল বাহিনীর জন্য অত্যন্ত
জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ১৫০ জন দমকলকর্মীর পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেনের
‘মিলিটারি ইমার্জেন্সি
ইউনিট’-এর ২২০ জন সেনা সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। বেদার গ্রাম থেকে প্রায় ১২০ জনকে
নিরাপদ স্থানে সরিয়ে একটি স্পোর্টস সেন্টারে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের
প্রাথমিক ধারণা, একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে শুকিয়ে যাওয়া বনে পড়ার কারণেই এই অগ্নিকাণ্ডের
সূত্রপাত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চরম আবহাওয়ার কারণে দক্ষিণ ইউরোপ জুড়ে দাবানলের
প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে পর্তুগালের দাবানলে ৬৬ জন এবং ২০২৫
সালে স্পেনের দাবানলে ৪ জন মারা যান। শুধু গত মাসেই (জুন ২০২৬) স্পেনে তীব্র গরমে অতিরিক্ত
২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে গভীর শোক প্রকাশ
করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ। তিনি দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের
আহ্বান জানিয়ে বলেন, আলমেরিয়া প্রদেশের এই দাবানলের করুণ পরিণতি আমাদের স্তব্ধ ও গভীরভাবে
শোকার্ত করেছে। আমি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য
কামনা করছি।
উল্লেখ্য, গত বছর জলবায়ু জরুরি অবস্থা
মোকাবেলায় ১০ দফা সবুজ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন সানচেজ। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন,
আমরা যদি আমাদের সন্তানদের জন্য আগুনের ছাইয়ে ধূসর কিংবা বন্যায় বাদামি হয়ে যাওয়া স্পেন
রেখে যেতে না চাই, তবে এখনই জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। গত ৫ বছরে
স্পেনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এতে দেশের
প্রায় ৩২ বিলিয়ন ইউরোর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

