Logo

আন্তর্জাতিক

বন্যার পানিতে ভাসছে বিষাক্ত সাপ

দক্ষিণ চীনে আতঙ্কে লাখো মানুষ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ২০:৩৫

দক্ষিণ চীনে আতঙ্কে লাখো মানুষ

ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি দক্ষিণ চীন। টাইফুন মাইস্যাক’-এর প্রভাবে টানা কয়েকদিনের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত দেশটির একাংশ। এরই মধ্যে নতুন এক আতঙ্ক যোগ হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে।

বন্যার পানিতে ভেসে গেছে গুয়াংসি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংঝৌ শহরের কয়েকটি বাণিজ্যিক সাপ প্রজনন খামার। ফলে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে শত শত মারাত্মক বিষাক্ত সাপ, যার মধ্যে রয়েছে কিং কোবরা (শঙ্খচূড়), ক্রেইট (কালকেউটে) ও গ্রিন পিট ভাইপারের মতো বিপজ্জনক প্রজাতি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু নাটকীয় ভিডিওতে দেখা গেছে, কর্দমাক্ত বন্যার পানির স্রোত থেকে ফণা তুলে আছে কোবরা। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা মরণপণ চেষ্টায় জাল দিয়ে সাপ ধরার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় বেইজিং নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যার পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ায় সাপগুলো শুকনো জায়গার খোঁজে মানুষের বসতবাড়ি, সিঁড়িঘর, ভবনের কোণ এবং নদীর তীরে আশ্রয় নিচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন।

স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ভুক্তভোগী জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ঘরের নিচতলার ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করার সময় একটি কোবরা তাকে কামড় দেয়। হেংঝৌ পিপলস হাসপাতালের একজন চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন যে, টাইফুন আঘাত হানার পর থেকে তারা সাপের কামড়ে আক্রান্ত অসংখ্য রোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি, বিষাক্ত সাপের কামড়ে ইতোমধ্যে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে, যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

গুয়াংসি অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত সোমবার দুটি জলাধার উপচে পড়ে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি শহর ও গ্রাম পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৬ জন। দুর্গত এলাকা থেকে প্রায় ৫০,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু গুয়াংসি নয়, মধ্য চীনের গুইঝু এবং হুবেই প্রদেশেও টাইফুনের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গানসু প্রদেশে এক ভয়াবহ ভূমিধসে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও টর্নেডোতে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১১ জন। দেশজুড়ে চলমান এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে সর্বাত্মক’ উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। হেংঝৌ জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরো জানিয়েছে, তারা খামার থেকে সাপ পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে। হেংঝৌ মিডিয়া কনভারজেন্স সেন্টার থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষকে নিজ হাতে সাপ না ধরার এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাপের কামড়ের দ্রুত চিকিৎসার জন্য হেংঝৌ পিপলস হাসপাতালে একটি 'ফাস্ট-ট্র্যাক' বা জরুরি সেবা চ্যানেল খোলা হয়েছে এবং উপদ্রুত এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টি-ভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) সরবরাহ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত মেডিকেল স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।

চীনে গ্রীষ্মকালে বন্যা ও অতিবৃষ্টি সাধারণ ঘটনা হলেও, বাণিজ্যিক খামার থেকে একসাথে শত শত বিষাক্ত সাপ পালিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা বেশ বিরল এবং এটি বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন