Logo

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: লুলা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ২০:২৬

ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: লুলা

ব্রাজিলের কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের মার্কিন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ব্রাজিল কোনো ধরনের অন্যায্য বাণিজ্য নীতির সঙ্গে জড়িত নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই একপাক্ষিক পদক্ষেপ তারা প্রত্যাখ্যান করছে।

গত মাসে প্রথম প্রস্তাবিত এই নতুন শুল্ক নীতি আগামী ২২ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইন সচল রাখতে এবং যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হয় না, সেগুলোকে এই শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। ফলে কফি, গরুর মাংস, কমলা ও কমলার রস, নির্দিষ্ট কিছু তেল ও গ্যাস শক্তি পণ্য এবং মহাকাশযান বা অ্যারোস্পেসের যন্ত্রাংশ এই অতিরিক্ত শুল্কের ধাক্কা থেকে বেঁচে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) কার্যালয় জানিয়েছে, দীর্ঘ এক বছর ধরে চালানো এক তদন্তের পর তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ব্রাজিলের শিথিল দুর্নীতি বিরোধী আইন ও অন্যান্য দেশের পণ্যের ওপর ব্রাজিলের নিজস্ব উচ্চ শুল্ক নীতি মার্কিন বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর ও অযৌক্তিক। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিইসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, আমেরিকান শ্রমিক এবং কোম্পানিগুলোর জন্য একটি সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে ব্রাজিলের সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত থাকার পরেও যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থানকে রাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এই বাণিজ্য যুদ্ধকে আরও উস্কে দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সরাসরি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট লুলা এবং তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৎ উদ্দেশ্যে কোনো আলোচনা করেনি। লুলার অর্থনৈতিক নীতি আমেরিকান এবং ব্রাজিলিয়ান—উভয় জনগণের জন্যই ক্ষতিকর। অপরদিকে লুলার ইঙ্গিত ভিন্ন দিকে। আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লুলা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্ল্যাভিও বলসোনারো (সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র) সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরের পরই এই শুল্কের ঘোষণা আসে।

১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের 'সেকশন ৩০১'-এর অধীনে এই তদন্ত ও শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়াটি চালানো হয়েছে। এর আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৭ সালের একটি জরুরি অর্থনৈতিক আইন ব্যবহার করে ট্রাম্পের দেওয়া পূর্ববর্তী বেশ কিছু শুল্ক নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় ২০২২ সালের নির্বাচনে হেরে ক্ষমতা দখলের চেষ্টার দায়ে জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলে চলা বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ট্রাম্প ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা আদালত বাতিল করে দেয়। মে মাসে হোয়াইট হাউসে লুলার সফরের পর দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার আভাস পাওয়া গেলেও, এই নতুন শুল্ক যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলল।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন