ইবোলা মুক্ত হওয়ার পথে উগান্ডা
শেষ রোগীকেও দেওয়া হলো ছাড়পত্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ২০:৩৩
ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কবল থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়ার চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করেছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডা। বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী কাম্পালার ‘মুলাগো ন্যাশনাল রেফারেল হাসপাতাল’-এর আইসোলেশন ইউনিট থেকে সর্বশেষ ইবোলা আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ ঘোষণা করে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করার পর দেশটিকে সম্পূর্ণ 'ইবোলা মুক্ত' ঘোষণার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিয়ম অনুযায়ী ৪২ দিনের কাউন্টডাউন বা দিন গণনা শুরু হয়েছে।
উগান্ডা সরকারের মুখপাত্র অ্যালান কাসুজ্জা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জানান, সর্বশেষ রোগীটির
হাসপাতাল ত্যাগের মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত অপেক্ষমাণ সময়ের ঘড়ি চালু
হয়ে গেল। ডব্লিউএইচও-এর গাইডলাইন বা নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি আগামী ৪২ দিনের মধ্যে
দেশটিতে নতুন করে কোনো ইবোলা রোগী শনাক্ত না হয়, তবে উগান্ডাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ
ইবোলা মুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
উগান্ডা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনলাইন
পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট ১৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন
এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ জন পাশ্ববর্তী
দেশ গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) থেকে ভাইরাসটি বহন করে এনেছিলেন এবং বাকি ৫
জন স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছিলেন। মূলত ডিআর কঙ্গোতে গত মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
কর্তৃক ঘোষিত জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থার প্রভাব উগান্ডাতেও এসে পড়েছিল। তবে দ্রুত ও কার্যকর
পদক্ষেপের কারণে উগান্ডা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
চলতি বছরের এই প্রাদুর্ভাবটি ইবোলা ভাইরাসের
অত্যন্ত বিরল ও বিপজ্জনক 'বুন্দিবুগিও' স্ট্রেনের কারণে ঘটেছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য
সংস্থার রেকর্ড অনুযায়ী ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব। কঙ্গোতে এই ভাইরাসের
সংক্রমণ এখনো উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। কঙ্গো সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে
বুধবার পর্যন্ত ইবোলা আক্রান্ত নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,০১১ জনে এবং মৃত্যুর
সংখ্যা ৭৫৪ ছাড়িয়ে গেছে। কঙ্গোর এই প্রাদুর্ভাবটি মূলত দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি
প্রদেশকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়েছিল।
উল্লেখ্য, ইবোলা একটি অত্যন্ত মারাত্মক
ছোঁয়াচে রোগ, যা মূলত আক্রান্ত মানুষ বা প্রাণীর শরীরের তরল পদার্থ যেমন—রক্ত, বমি
ও লালার সরাসরি সংস্পর্শে ছড়ায়। বুন্দিবুগিও স্ট্রেনের জন্য সাধারণ ইবোলার মতো কোনো
লাইসেন্সপ্রাপ্ত অনুমোদিত প্রতিষেধক বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকায় দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ
ও আইসোলেশনই এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। উগান্ডার এই সর্বশেষ রোগীর সুস্থতা ও
মুক্তির ঘটনাকে পুরো আফ্রিকার স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা
হচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

