Logo

আন্তর্জাতিক

উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর পাল্টা আঘাত

ইরানে টানা সপ্তম রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১১

ইরানে টানা সপ্তম রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

মার্কিন বিমান হামলায় চাবাহার মেরিটাইম (সামুদ্রিক) টাওয়ার ধ্বংস, ছবি: সংগৃহীত

ইরানে টানা সাত রাত হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাতেও মার্কিন হামলায় কেঁপে উঠে ইরান। পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরানও। যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদেশগুলোয় পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।

পাল্টাপাল্টি এসব হামলায় উভয় পক্ষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে; একইসঙ্গে হামলা হয়েছে হরমুজ প্রণালিতেও।

নতুন করে সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রণালির কাছেই একটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন মার্কিন মেরিন সেনারা।

অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানায়, হরমুজের দক্ষিণাংশের মাইন পাতা পথ ধরে চলাচলের সময় দুটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে ট্যাংকার দুটিতে আগুন ধরে যায়। কিন্তু মার্কিন সামরিক বাহিনী এ প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বলেছে।

সশস্ত্র ব্যক্তিরা ইয়েমেন উপকূলে আরেকটি জাহাজ আটক করেছেন। এর মধ্য দিয়ে হরমুজের পাশাপাশি লোহিত সাগরের সংকীর্ণ পথ বাব আল–মান্দেব দিয়েও জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

আইআরজিসির বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে রাসায়নিক সার, এমনকি এক ফোঁটা তেল ও গ্যাস রপ্তানি হবে না।

আইআরজিসি জানায়, হরমুজ দিয়ে চলাচলের সময় নিয়ম ভাঙায় ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন হামলা চালিয়ে চারটি জাহাজ রুখে দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধের জন্য সই হওয়া সমঝোতা ভেঙে গত সপ্তাহ থেকে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। 

ইরানের সংবাদমাধ্যম জানায়, হরমুজ প্রণালিঘেঁষা উপকূলীয় হরমুজগান প্রদেশে শনিবার (১৮ জুলাই) দিনের শুরুতে শত্রুপক্ষ হামলা চালিয়েছে। হামলায় তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। হামলায় সেখানকার দুটি সেতু ও একটি সড়ক টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এর আগে জানায়, শুক্রবার দিনের শুরুতে মার্কিন হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত পাঁচটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর খামিরের সেতুগুলোয় হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। ওই এলাকায় রেলস্টেশনেও হামলা হয়েছে। আরও পূর্বে এবং উপকূল থেকে দূরে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী ইরানশাহর প্রদেশের একটি বিমানবন্দর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘যদি মার্কিন হামলা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকে, তাহলে আমরা পূর্ণাঙ্গ আক্রমণাত্মক অভিযানের পর্যায়ে প্রবেশ করব।’

বাহরাইন, কাতার, কুয়েতসহ মার্কিন বিমানঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোয় হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে তেহরান। সেই সঙ্গে ভারত মহাসাগরের উত্তরে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজে হামলার দাবি করেছে তেহরান।

কুয়েতের কর্তৃপক্ষ বলেছে, দেশটির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরানের ড্রোন হামলার জবাব দিয়েছে।

আইআরজিসি দাবি করেছে, বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনের একটি মজুতাগারে হামলা চালিয়েছে তারা। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোনের সহায়তায় বাহরাইনের প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রটি ধ্বংস করা হয়েছে। 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ডনট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। সম্প্রতি তারা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান, যা ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘণ। ইরানে ক্ষমতাসীন সরকারের নেতারা অসুস্থ এবং নিকৃষ্ট। আমি মনে করি, হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর তাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা করা সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছু নয়।

ট্রাম্প এই বক্তব্য দেওয়ার পর ১১ জুলাই রাত থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি রাতে ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে সেন্টকোম।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন