Logo

আন্তর্জাতিক

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন প্রত্যাহার

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:৩২

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন প্রত্যাহার

#  দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস

# শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ

# বিক্ষোভকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান

# মোদি সরকারকে কড়া বার্তা রাহুলের

# ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম

# আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি: সিজেপি

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন দাবি নরেন্দ্র মোদির সরকার মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এর আগে নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

শনিবার তৃতীয় দফা সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সিজেপির বৈঠকের পর নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি সরকার মেনে নেওয়ার আশ্বাসে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের কর্মসূচি স্থগিত করে বিক্ষোভকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।

কয়েক সপ্তাহের লাগাতার বিক্ষোভ ও চাপের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধান তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। সিজেপি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর প্রধান দাবিই ছিল শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ।

সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে, তাই আমরা সব বিক্ষোভকারীকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করছি।’

সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, সরকারের কাছে একটি দাবিনামা পেশ করা হয়েছে এবং সরকার তাতে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগামী এক মাস পর আমরা আবারও সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসব।’

এদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা এবং মঞ্চ থেকে ধাপে ধাপে আন্দোলনস্থল ত্যাগ করার মাইকিং করা সত্ত্বেও দিল্লির যন্তর মন্তরে এখনো মানুষের ঢল দেখা যাচ্ছে। বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনো বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করছেন।

এর আগে সরকারের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ২৬ দিনের অনশন ভঙ্গ করেন প্রখ্যাত অধিকারকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘লাদাখের হাড়কাঁপানো শীত থেকে এসে দিল্লির এই প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীদের জন্য অনশন করে আমার ওজন ১১ কেজি কমে গেছে। আমার মস্তিষ্ক ও শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এরপরও কি আমার অনশন কতটা পবিত্র ছিল তা নিয়ে কারও কাছ থেকে চরিত্রের সনদ নিতে হবে?’

ওয়াংচুক জানান, দিল্লিতে বড় ধরনের পুলিশি অভিযান বা ‘ক্র্যাকডাউন’-এর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলেই তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ: নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে কয়েক সপ্তাহের তীব্র বিক্ষোভ ও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে অবশেষে গতকাল শনিবার পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং বিরোধী দলগুলোর টানা আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। 

ককরোচ জনতা পার্টি এবং কেন্দ্র সরকারের মধ্যে তৃতীয় দফা আলোচনা শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এই ঘোষণা দেন।

দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান করা বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিই ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

ধর্মেন্দ্র প্রধান তার পদত্যাগপত্রে জানিয়েছেন, চলমান বিক্ষোভ যেন কোনো ‘দেশবিরোধী উপাদান’-এর উপকারে না আসে এবং শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো আইনি জটিলতার মুখোমুখি না হয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘এই দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, আবেগ এবং ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ভারতের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক অঙ্গীকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর পৌঁছানোর সাথে সাথেই যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে উৎসবের জোয়ার বয়ে যায়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছে: ‘ছাত্র শক্তি দীর্ঘজীবী হোক’।

সিজেপির প্রধান চার দাবি- ১. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ (যা কার্যকর হয়েছে)। ২. পরীক্ষা ব্যবস্থার চাপে আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ। ৩. শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া ও মামলা প্রত্যাহার। ৪. বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনের প্রবেশপথগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনো দিল্লির ১৮টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। 

মোদি সরকারকে কড়া বার্তা রাহুলের: প্রবল আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন এবং মোদি সরকারকে লক্ষ্য করে কড়া বার্তা দিয়েছেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার পথে প্রথম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।

গতকাল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া এক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন এই কংগ্রেস নেতা।  

দেশজুড়ে যেসব তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থী গণতন্ত্র, সংবিধান এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় রাজপথে নেমে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, তাদের অভিনন্দন জানিয়ে রাহুল বলেন, ‘আমরা তোমাদের নিয়ে গর্বিত, দারুণ কাজ করেছ শিক্ষার্থীরা’।

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র, সংবিধান এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় যারা রাস্তায় নেমে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন, সেই প্রত্যেক তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন।’ 

এসময় তিনি উল্লেখ করেন, এই আন্দোলনের সাফল্য সরকারের ভুল নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র, কৃষক ও শ্রমিকদের জন্যও একটি বড় বার্তা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক উপায়ে সাহস করে দাঁড়ালে যে পরিবর্তন সম্ভব, শিক্ষার্থীরা তা প্রমাণ করেছে। 

ভিডিও বার্তায় মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই সরকার ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দখল ও ধ্বংস করছে। তাই এখন এই সরকারকে অপসারণ করার সময় এসেছে”।

বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আরও জেরালো আন্দোলনের নামার আহ্বান জানিয়ে রাহুল আরও বলেন, ‘ভয় পাবেন না, রুখে দাঁড়ানোর মধ্যেই মুক্তি আছে। চলুন সবাই এসঙ্গে মিলে এই শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করি।’ 

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ হলেও শিক্ষার্থীদের প্রধান ৩টি দাবির মধ্যে এখনো দুটি দাবি বাকি রয়েছে উল্লেখ করে সরকারের প্রতি তা শিগগিরই পূরণের আহ্বান জানান তিনি। দাবিগুলো হলো— আন্দোলনের সময় বিশেষ করে ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রায় শিক্ষার্থীদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে বা বলপ্রয়োগ করেছে, তাদের প্রত্যেককে শাস্তি দিতে হবে। দ্বিতীয়টি হলো- ভারতের শিক্ষার্থীদের এবং দেশের ভবিষ্যৎকে সম্মান জানিয়ে পুরো ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘যারা আমাদের ছাত্রদের দিকে আঙুল তুলেছে, তাদের ওপর হামলা করেছে, গুলি চালিয়েছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং পরিশেষে, বিক্ষোভ চলাকালে যে সকল ছাত্রছাত্রীর ওপর নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’ 

ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম: হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনোনয়ন-সংক্রান্ত এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেছিলেন, এমন কিছু তরুণ রয়েছে, যারা তেলাপোকার মতো, তাদের কোনো চাকরি নেই এবং পেশায়ও তাদের কোনো জায়গা নেই।

তবে পরবর্তী সময়ে তিনি দাবি করেন, মন্তব্যটি বেকার তরুণদের উদ্দেশে নয়; বরং ভুয়া আইন ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে করা হয়েছিল। এছাড়া তিনি দাবি করেন, গণমাধ্যমের একটি অংশ তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। তবে তিনি তার এই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেও মন্তব্যটি দ্রুত দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অবস্থানরত শিক্ষার্থী এবং আম আদমি পার্টির সাবেক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে পরদিনই এক্সে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি ১৬ মে ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি) গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি এটিকে পৃথিবীর সব ‘তেলাপোকাদের’ জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করেন।

দলটির সদস্য হওয়ার জন্য তিনি মজার ছলে কয়েকটি ‘যোগ্যতার’ কথাও উল্লেখ করেন। সেখানে বলা হয়, বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে, সব সময় অনলাইনে থাকতে হবে এবং পেশাদারের মতো ক্ষোভ প্রকাশ করতে জানতে হবে। এরপরেই দ্রুত দেশটিতে অনলাইনে সিজেপি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পায়।

এরপর মে মাসের শেষ দিকে দেশটিতে নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে জনরোষ বাড়তে থাকলে সিজেপির ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণাও ব্যাপক সমর্থন পেতে শুরু করে।

পরবর্তীতে জুনের শুরুতে অভিজিৎ দিপকে ভারতে ফিরে এসে যন্তর মন্তরের কাছে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। সেই সময় দেশটির পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও অনশন শুরু করেন।

তিনি ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। এরপর টানা ২৬ দিন অনশন চালানোর পর চলতি সপ্তাহে তিনি তা প্রত্যাহার করেন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে কয়েকটি আশ্বাস দেয়ার পর তিনি অনশন ভাঙেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সরকারের আশ্বাসগুলোর মধ্যে ছিল, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করা, সংসদে পরীক্ষা সংস্কার ও জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা এবং প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ বিবেচনা করা।

এদিকে ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করলেও সিজেপি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকে। এরই মধ্যে ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। যদিও সরকার দীর্ঘদিন কঠোর অবস্থানে ছিল, শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। শেষমেশ শনিবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেয়া পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরও দাবি করেন, যন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান পরিস্থিতি যেন ‘রাষ্ট্রবিরোধী উপাদান’ কাজে লাগাতে না পারে, সেটিও তার সিদ্ধান্তের একটি বিবেচ্য বিষয় ছিল।

আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি: গতকাল দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে তার পদত্যাগ কেবল একটি আংশিক বিজয়, আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)। তাদের বাকি ২টি দাবি সম্পূর্ণরূপে পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে হুশিঁয়ারি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

দিল্লির যন্তর মন্তরের মূল মঞ্চ থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দুর্নীতির কারণে চরম হতাশায় ভুগে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্রছাত্রীরা আত্মহত্যা করেছে তাদের পরিবার কি ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত নয়? তাদের পাওয়া উচিত, তাই না? ঐ সমস্ত পরিবার ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য।’

দ্বিতীয়ত, গত ২০ জুলাই যে পুলিশকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর গুন্ডার মতো হামলা চালিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর


Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন