মরক্কো থেকে সাঁতরে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা, মৃত্যু ১৮
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫৩
মরক্কো থেকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১৮ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর শত শত অভিবাসী মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন।
এর আগে সেউতা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গত ১০ দিনে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার অভিবাসী ওই অঞ্চলে প্রবেশ করেছেন।
নিহতদের মধ্যে অনেকে সাগরে ডুবে মারা গেছেন। আবার কেউ কেউ সৈকতের ব্রেকওয়াটারের পাশের সীমান্ত বেড়া পার হওয়ার সময় পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
স্থানীয় সিভিল গার্ড সদস্যদের প্রতিনিধিত্বকারী শ্রমিক সংগঠনের প্রধান রাশিদ সবিহি এ ঘটনাকে গুরুতর মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, অভিবাসন সংকটের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রযোজ্য নয়। তবে সীমান্তে অতিরিক্ত সহায়তা দিতে ৬০ জন সেনা সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক অভিবাসী ‘ভিভা এসপানিয়া! (স্পেন দীর্ঘজীবী হোক)’ স্লোগান দিতে দিতে সেউতায় প্রবেশ করছেন। তাদের অনেকেই মরক্কোর উপকূল থেকে ফোলানো ভাসমান যন্ত্রের সাহায্যে সমুদ্রপথে সীমান্ত অতিক্রম করেন। এছাড়া অনেকে স্থলপথে সীমান্তের বেড়া টপকেও প্রবেশ করেন।
অভিবাসীদের অধিকারবিষয়ক কর্মী জাকারিয়া জাররোকি রয়টার্সকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতি ২০২১ সালের মে মাসের ঘটনার মতো, যখন কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মরোক্কান ও সাব-সাহারান আফ্রিকান অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সীমান্ত পার হওয়ার আশায় মরক্কোর ফনিদেক শহরে আরও মানুষ জড়ো হচ্ছেন।’
সেউতা ও মেলিয়া উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহর। এগুলোই আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত। ইউরোপে প্রবেশের আশায় অভিবাসীদের সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা এ দুই অঞ্চলে প্রায়ই দেখা যায়।
এর আগে চলতি মাসে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, সেউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সমুদ্রে আটক অভিবাসীদের মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না।
গার্দিয়া সিভিলের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকে ধীরে ধীরে অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ছিল, তবে আজ সেটি বিস্ফোরণের মতো বেড়ে গেছে।’
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনিয়মিত অভিবাসনের এই ঢল মোকাবিলায় তারা মরক্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, মানবপাচারকারী চক্রগুলো সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কাজে লাগিয়ে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ইউরোপে প্রবেশে উৎসাহিত করছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শুক্রবার সেউতা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার। সূত্র: আলজাজিরা
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

