শর্তে ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫২
ছবি: সংগৃহীত
দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্তে ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (১ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ তাকে কিছুটা সময় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করা যায়। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সম্ভাব্য হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ওই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে সম্পূর্ণ খুলে দিতে হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ইসরায়েল একমত বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে ইসরায়েল তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে ইরানও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন সময়ে এল, যখন মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এযাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়, শুক্রবার ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে সাংবাদিকদের সামনেই ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ভয়াবহ আঘাত হানবে এবং একপর্যায়ে ইরান আর সহ্য করতে পারবে না।
ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ওপর এতটাই ভয়াবহ হামলা করতে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত (লকড অ্যান্ড লোডেড) ছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি।
অন্যদিকে অ্যাক্সিওস খবর দেয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান শনিবার ট্রাম্পকে ফোন করে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। রয়টার্সও ওই ফোনালাপের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ট্রাম্পের ঘোষণার আগে থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শনিবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
তিনি সতর্ক করে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক পদক্ষেপে সহযোগিতা করা পশ্চিম এশিয়ার যে কোনো দেশ যুদ্ধের আগুনে ভস্মীভূত হবে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে আলাপে আরাকচি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর মার্কিন হামলার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।
ইরানের সংবাদমাধ্যম নূরনিউজের শনিবার বলা হয়, ইরানি জ্বালানি অবকাঠামোতে মার্কিন হামলা হলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং ইসরায়েলের তেল ও গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে এবং সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হবে।
এদিকে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কায় পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র।
এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় বলা হয়, পরিস্থিতির অবনতি হলে বিমান চলাচল ব্যাহত হতে পারে, আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
তাই প্রয়োজন হলে দ্রুত এলাকা ছাড়ার জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় মার্কিন নাগরিকদের।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। এরপর থেকেই ওই অঞ্চলে সংঘাত চলছে।
এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা জুনে ভেঙে যায়। সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রবল ধাক্কা লেগেছে। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

