গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায়
সুদানে আশ্রয় নিচ্ছেন হাজারো টাইগ্রে শরণার্থী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫২
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে সীমান্তে দেশটির জাতীয় সেনাবাহিনী ও টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়েছে। শেরে রাখা নামক স্থানে উইকেন্ডজুড়ে চলা এই ভয়াবহ লড়াইয়ের পর আহত বিদ্রোহী যোদ্ধাসহ শত শত টাইগ্রে নাগরিক জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী সুদানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
ড্রোন ও ভারী কামানের গোলার ব্যবহার করে
চালানো এই লড়াইয়ে ইথিওপিয়ার ২০২২ সালের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
এর ফলে অঞ্চলটিতে আবারও পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
টাইগ্রে বিদ্রোহীরা অভিযোগ করেছে যে, ইথিওপীয়
সেনাবাহিনীই প্রথম এই হামলা চালিয়েছে এবং তারা পদাতিক বাহিনীর মাধ্যমে বড় ধরনের আক্রমণ
চালিয়ে সংকটকে তীব্র করেছে। অন্যদিকে, উভয় পক্ষই বেশ কয়েক মাস ধরে সীমান্তে ভারী
অস্ত্র ও সৈন্য সমাবেশ করছিল, যেখানে একে অপরকে নতুন করে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার জন্য দোষারোপ
করছিল। যদিও সংঘাত শুরুর পর পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হয়েছে বলে জানিয়েছে টিপিএলএফ-এর
একটি সূত্র, তবে সীমান্তে থমথমে ভাব বজায় রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে আফ্রিকান
ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে যে দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের
সমাপ্তি ঘটেছিল, তাতে অন্তত ৬ লাখ মানুষ প্রাণ হারান এবং বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়।
সুদানের নীল নদ প্রদেশের রাজধানী আদ-দামাজিন
থেকে জানা গেছে, সীমান্তজুড়ে অবস্থিত প্রধান শরণার্থী শিবিরগুলোতে ড্রোন ও কামানের
গোলার বিস্ফোরণ ঘটেছে। সুদানের সীমান্তবর্তী অধিবাসীরা পুরো সংঘর্ষ চলাকালে একটানা
গুলির শব্দ ও ভারী বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা এই সীমান্ত
উত্তেজনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইথিওপিয়ায় চলমান এই নতুন উত্তেজনা কেবল দেশটির
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকেই নয়, বরং পুরো হর্ন অফ আফ্রিকা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে এক নতুন
অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

