নিকোলে ম্লাদেনভ
হামাস নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার নয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৮
আমেরিকান নেতৃত্বাধীন 'বোর্ড অব পিস'-এর মহাপরিচালক নিকোলে ম্লাদেনভ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না।
গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নতুন রোডম্যাপ ও সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার পশ্চিম জেরুজালেমে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে বোর্ড অব পিস সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানায়, ভুল বার্তার বিপরীতে তারা স্পষ্ট করতে চান যে, গাজায় ইসরায়েলি
সেনার প্রত্যাহার বা 'ইয়েলো লাইন' (ইসরায়েলি বাহিনীর গাজায় অবস্থানের সীমানা রেখা)-এর
ওপারে পিছিয়ে যাওয়া কেবল তখনই ঘটবে যখন গাজায় হালকা-ভারী অস্ত্র ও সুড়ঙ্গসহ সব ধরনের
নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ট্রাম্প কর্তৃক চলতি বছরের জানুয়ারিতে গঠিত
এই আন্তর্জাতিক বোর্ডটির প্রধান লক্ষ্য হলো গাজায় অস্ত্রের শাসন বিলুপ্ত করে একটি বেসামরিক
শাসনব্যবস্থা কায়েম করা। তবে হামাসও তাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেছে, ইসরায়েল
চুক্তি অনুযায়ী তাদের সেনা প্রত্যাহারের অংশ বাস্তবায়ন না করলে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার
এই চুক্তি কার্যকর করা হবে না।
চুক্তি ঘোষণার পর থেকেই ইসরায়েলের কট্টর
ডানপন্থী রাজনীতিবিদরা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো
হয়েছে যে, প্রকাশ্যে আসা চুক্তির খসড়াটি ইসরায়েলের চূড়ান্ত অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব
করে না।
অন্যদিকে দেশের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ
অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল সরকার যা অনুমোদন করেছিল, এই নতুন চুক্তি তার থেকে সম্পূর্ণ
ভিন্ন। ফলে তিনি অবিলম্বে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় নতুন ভোটের দাবি জানিয়েছেন। আসন্ন ইসরায়েলি
নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপ সামলাতে নেতানিয়াহু প্রশাসন চুক্তির শর্তাবলি থেকে
পিছু হঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বৈঠকে ম্লাদেনভ নেতানিয়াহুকে গাজায় হামলা
বন্ধের আহ্বান জানান। তবে ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ঘোষিত নামমাত্র "যুদ্ধবিরতি"
সত্ত্বেও ইসরায়েল ক্রমাগত তাদের আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়েই
অন্তত ১,২০০-র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সম্প্রতি নতুন চুক্তিটির ঘোষণার
পরই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৬ জন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু
হওয়া এই ভয়াবহ হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৭৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মিসর,
কাতার ও তুরস্ক—যারা এই চুক্তির মধ্যস্থতাকারী ছিল, তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বেসামরিক
নাগরিক ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত
করেছে।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন
হামাস ও অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে যে, তারা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তারা মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

