পৌনে ২ লাখ মার্কিন ভিসা বাতিল, ভ্রমণকারী ও অভিবাসীদের জন্যও দুঃসংবাদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতির অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। একইসঙ্গে আরও হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত এক তথ্যবিবরণীতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভিসা বাতিলের পেছনে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ, প্রতারণা, সহিংসতায় উসকানি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা।
গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করে। এরই অংশ হিসেবে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে বৈধ ভিসাধারীও ছিলেন। পাশাপাশি ব্যাপক হারে ভিসা বাতিলের ঘটনা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিয়মিত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভিসাধারীরা ভিসার শর্ত মেনে চলছেন কি না এবং তারা মার্কিন নাগরিকদের জন্য কোনো ধরনের হুমকি তৈরি করছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
ভিসা বাতিলের উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ রয়েছে।
পররাষ্ট্র দফতরের বিবৃতিতে কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আরেকজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানব পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য একজনের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপকরণ রাখার এক ডজনের বেশি অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রে ‘বার্থ ট্যুরিস্ট’ হিসেবে আসা বাবা-মায়েদের ১০০টির বেশি ভিসা বাতিল করেছে। অভিযোগ, এসব বাবা-মা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, যাতে সন্তান সেখানে জন্ম নিয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, জনপ্রিয় রক্ষণশীল অধিকারকর্মী চার্লি কার্ককে হত্যার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। তাদের একজন হত্যাকাণ্ডের পর বলেছিলেন, ‘ফ্যাসিস্টরা মারা গেলে গণতন্ত্রপন্থীরা অভিযোগ করে না।’ আরেকজন মন্তব্য করেছিলেন, ‘তিনি দেরিতে মারা গেছেন।’ উল্লেখ্য, গত বছর চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা এবং তাদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।
দফতরের ভাষ্য, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি সুযোগ, অধিকার নয়।’ ভিসার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ভিসা বাতিলসহ বিদ্যমান সব ধরনের আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, তারা ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। তখন এটিই ছিল এক বছরে ভিসা বাতিলের রেকর্ডসংখ্যা।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াতেও নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যক্রম যাচাই আরও কঠোর করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের আওতা বাড়ানো হয়েছে।
তবে, মানবাধিকারকর্মী ও অধিকারবিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের এই নীতির সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে এর মাধ্যমে অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি ও তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। সূত্র : আল জাজিরা
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

