ছয় বছর পর যুক্তরাজ্যে আসার পরিকল্পনা হ্যারি-মেগানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১৬:১৬
ছবি: সংগৃহীত
রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর ছয় বছর পর প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল এ মাসেই যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে একাধিক ব্রিটিশ গণমাধ্যম।
পিপল ম্যাগাজিন ও দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের সন্তান সাত বছরের প্রিন্স আর্চি ও পাঁচ বছরে প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসছেন।
হ্যারির মুখপাত্র বা বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে, এই দম্পতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাজ্যে এই দম্পতি কোনো রাজকীয় ভবনে থাকবেন না। ২০২০ সালের মার্চে তারা যখন চলে যান, তখন প্রয়াত রানি এলিজাবেথের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তারা কর্মহীন রাজকীয় সদস্য (নন-ওয়ার্কিং রয়্যালস) হিসেবে থাকবেন।
২০১৮ সালে উইন্ডসর ক্যাসেলে এক অনুষ্ঠানে মেগান মার্কেলকে বিয়ে করেন হ্যারি। কিন্তু রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ফাটল দেখা দেয়। দুই বছর পর ২০২০ সালের মার্চে তারা দাপ্তরিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো ও যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর ঘোষণা দেন।
পরে তারা ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারার কাছে মন্টেসিটো নামে একটি অভিজাত এলাকায় বসবাস শুরু করেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে তাদের কেনা ১৬ বেডরুমের বাড়িটির দাম ছিল ১৪ দশমিক সাত মিলিয়ন ডলার।
৪১ বছর বয়সী হ্যারি ও ৪৫ বছর বয়সী মেগান একাধিক টিভি সাক্ষাৎকার, নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টারিতে ব্রিটিশ রাজপরিবার ও রাজতন্ত্রের সমালোচনা করেন। হ্যারির আত্মজীবনী ‘স্পেয়ারে’ও ওই সমালোচনা রয়েছে।
২০২১ সালে অপরাহ উইনফ্রিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেগান বলেন, পরিবারের এক নাম না জানা সদস্য আমাদের ছেলে আর্চির গায়ের রঙ কতটা গাঢ় হতে পারে তা জানতে চেয়েছিলেন। এর জবাবে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ও হ্যারির বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়াম ব্রিটেনের রাজপরিবার বর্ণবাদী হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। বাবা রাজা চার্লস ও প্রিন্স উইলিয়ামের প্রতি হ্যারির কিছু সুনির্দিষ্ট মন্তব্য ছিল, যার ফলে সম্পর্কে অবনতি ঘটে।
ব্রিটিশ সরকার তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা পরিবর্তন করায় হ্যারিও ক্ষুব্ধ ছিলেন। একসময় হ্যারি বলেন, পুলিশি সুরক্ষার অভাবের অর্থ হলো আমি সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্রিটেনে আনতে অক্ষম।
তবে গত সেপ্টেম্বরে রাজার সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে বলে মনে করা হয়। ওই সময় ২০ মাসের মধ্যে প্রথমবার বাবা ও ছেলের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়। ২০২৪ সালে চার্লসের শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। গত ডিসেম্বরে তিনি টেলিভিশনে ঘোষণা করেন, তিনি সেড়ে উঠছেন এবং চিকিৎসকরা তার ওষুধ কমিয়ে আনছেন।
গত জুলাইয়ে হ্যারি ও মেগান সন্তানদের নিয়ে ব্রিটেন সফর করেন। ওই সময় ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো চার্লস তার নাতি-নাতনিদের দেখেন। তবে, রাজা সাসেক্সদের সঙ্গে আরও বেশি দেখা করার সুযোগকে স্বাগত জানালেও, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি গত রোববার এই দম্পতির ব্রিটেনে ফেরার পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে পেরেছেন।
হ্যারি ও রাজার সম্পর্কে কিছুটা উন্নতি হলেও, ভাইয়ের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্ক ভালো নয়, বলতে গেলে কোনো কথাই হয় না।
হলিউডের ঠিক উত্তরে নিজেদের বাড়ি থেকে হ্যারি ও মেগান বেশ কয়েকটি উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। একটি পডকাস্ট সিরিজের জন্য স্পটিফাই-এর সঙ্গে এবং সাবেক অভিনেত্রী মেগানের সঞ্চালনায় একটি লাইফস্টাইল শো-সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য নেটফ্লিক্সের সঙ্গে কয়েক মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু এসব উদ্যোগ নিয়ে মিশ্র ফল হয়েছে। হ্যারির আত্মজীবনীমূলক বইটি বেস্টসেলার হলেও তাদের পডকাস্ট ও মেগানের নেটফ্লিক্স শো নবায়ন হয়নি।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

