৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি মার্কিন ফেডারেল আদালতে বাতিল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার মার্কিন প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন দেশটির ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছেন, এ ধরনের নীতি নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
ম্যানহাটনের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস শুক্রবার (২১ আগস্ট) এ রায় দেন। তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যে নীতি কার্যকর করেছিল, তা স্পষ্টতই বেআইনি এবং কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রায়ে বিচারক বলেন, অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা আইনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ সেই আইনি কাঠামোতে নেই।
মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে অভিবাসী ভিসার আবেদন যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারা। তারা আবেদনকারীর যোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বিচারক ভার্গাস তার রায়ে বলেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে একটি বড়সংখ্যক আবেদনকারীর অভিবাসী ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার নীতি প্রচলিত আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।
জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া নীতির আওতায় ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, বসনিয়া ও আলবেনিয়াসহ এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের নানা দেশ ছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের যুক্তি ছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এ আশঙ্কা থেকেই তাদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল।
তবে আদালত ওই যুক্তি গ্রহণ করেননি। বিচারক মনে করেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে এভাবে ঢালাওভাবে ভিসা স্থগিত করার ক্ষমতা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেই।
অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার নামের দুটি সংগঠন এ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ভিসার আবেদন করা কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও ছিলেন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ দেওয়া বিচারক জ্যানেট ভার্গাস মামলাটির শুনানি শেষে শুক্রবার নীতিটি বাতিলের আদেশ দেন। রায়ের বিষয়ে জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার প্রশাসনের দাবি, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানো।
তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপের ফলে অভিবাসীদের আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি জাতীয়তা ও পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য ও হয়রানির ঝুঁকি বাড়ছে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

