Logo

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে প্রতিবেশীদের সতর্কবার্তা ইরানের

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩২

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে প্রতিবেশীদের সতর্কবার্তা ইরানের

# হরমুজকে ফের মার্কিন ভূখণ্ড দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেহরানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলার নতুন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার নতুন প্রধান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাণিজ্যিক স্বার্থে সরাসরি আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের 'নতুন ভূখণ্ড' হিসেবে দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর অদ্ভুত অবস্থান আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন প্রধান মহসেন রেজাই দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত এই 'অর্থনৈতিক যুদ্ধে' অংশ নেয়, তবে পারস্য উপসাগর থেকে তেল পরিবহনের বিকল্প রুটগুলোতে হামলা চালাবে ইরান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "ওই প্রতিবেশী দেশগুলোকে শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে এবং আমরা তাদের স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু বানাব।"

মহসেন রেজাই ১৯৮০-৮৮ সালে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের অধিকাংশ সময় ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি মাসে তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে– একাধিক জ্যেষ্ঠ পদে রদবদলের ধারাবাহিকতায় তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া তাঁর এই সাক্ষাৎকারটিই দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া প্রথম কোনো দীর্ঘ ও বিস্তারিত সর্বজনীন বক্তব্য।

সাক্ষাৎকারে রেজাই দাবি করেন, চলমান এই সংঘাতমূলক পরিস্থিতিতে তেহরানের কাছে কৌশলগত আরও অনেক বিকল্প রয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা এখনও কোনো আমেরিকান অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত হানিনি।"

গত শনিবার প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে রেজাই আরও বলেন, "এ পর্যন্ত আমরা কেবল তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছি। তবে তারা যদি আমাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চায়, তবে ইরানের আশপাশে ও অন্যান্য স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব তেল কোম্পানি ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, আমরা সেগুলোতে হামলা চালাব।"

এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতিকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এক নতুন প্রচারণার ঘোষণা দেন। তেহরানকে কোনো প্রকার সহায়তা দেওয়া বা তাদের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর 'ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি' নামিয়ে আনার হুমকি দেন তিনি। সংঘাতের কোনো কার্যকর সমাধান ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ— প্রায় ছয় মাসের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার মুখে ট্রাম্প এই হুমকি দিলেন।

গত ১৯ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ ঘোষণা করেন প্রসিডেন্ট ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানকে আমি ছাড়া আর কেউ চুক্তির জন্য এত সুযোগ-সুবিধা, এত ছাড় দেয়নি। এটা তাদের জন্য দুঃখজনক যে তারা চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে আজ আমি ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা করছি। এ অভিযান এতটা বিধ্বংসী হবে যে এর আগে কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন অভিযান হয়নি। এটা হবে একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং এর জেরে ইরান আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে অভূতপূর্ব মাত্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।”

গত ১৯ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ ঘোষণা করেন প্রসিডেন্ট ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানকে আমি ছাড়া আর কেউ চুক্তির জন্য এত সুযোগ-সুবিধা, এত ছাড় দেয়নি। এটা তাদের জন্য দুঃখজনক যে তারা চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে আজ আমি ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা করছি। এ অভিযান এতটা বিধ্বংসী হবে যে এর আগে কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন অভিযান হয়নি। এটা হবে একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং এর জেরে ইরান আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে অভূতপূর্ব মাত্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।”

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তা শেষ করার মার্কিন প্রচেষ্টা ভেস্তে গেছে। গত জুনে স্বাক্ষরিত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার পর যুদ্ধের আগের হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিক তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত ইরানের হাতেই রয়ে গেছে।

তেহরানের অর্থনীতিকে একঘরে করার এই মার্কিন প্রচেষ্টায় অন্যান্য দেশকে, বিশেষ করে ইরানের অন্যতম শীর্ষ কৌশলগত অংশীদার চীনকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করে বলেছে যে, আমেরিকান নিষেধাজ্ঞা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কোনো সমাধান আনবে না।

এদিকে, ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত গত মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত রাখছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় গত কয়েক মাস ধরে 'অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি' পরিচালনা করে আসছে, যার মূল লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানে অর্থ প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধের মাধ্যমে ইরানের বন্দরগুলো থেকে তেল রপ্তানি বন্ধের চেষ্টা চলছে—যে তেল রপ্তানির ওপর ভর করে দেশটির অর্থনীতি টিকে রয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। সোমবার এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "অবরোধের মাধ্যমে এটি এখন আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এবং এটিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার ধারণাটি আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।"

গত শুক্রবার (স্থানীয় সময়) সাউথ ক্যারোলাইনায় এক জনসভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমরা আদৌ জিতেছি কি না তা-ই আমরা জানি না, কারণ আমি এখন হরমুজ প্রণালিকে একটি আমেরিকান ভূখণ্ড হিসেবেই দেখছি।"

পরবর্তীতে শনিবার রাতে ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পারস্য উপসাগরের একটি মানচিত্র শেয়ার করে সেখানে হরমুজ প্রণালিকে 'যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড' হিসেবে অভিহিত করেন।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন