সাত বছর পর
পুনরায় ডিএসএ-তে যোগ দিলেন অ্যালেক্সান্দ্রিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪১
যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে জোরালো আলোচনার গুঞ্জনের মধ্যেই আমেরিকান ডেমোক্রেটিক সোশালিস্টস (ডিএসএ)-এ পুনরায় যোগ দিয়েছেন জনপ্রিয় ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতা ও নিউ ইয়র্কের হাউস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যালেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ। দীর্ঘ সাত বছর পর সংগঠনটিতে নিজের সদস্যপদ নবায়ন করলেন ৩৬ বছর বয়সী এই প্রোগ্রেসিভ নেত্রী।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ওকাসিও-করতেজ
২০১৮ সালে প্রথম এক বছরের জন্য ডিএসএ-এর জাতীয় সংস্থায় যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৯
সালে তার সদস্যপদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি তা আর নবায়ন করেননি। সম্প্রতি নিউ
ইয়র্কের সংবাদমাধ্যম 'সিটি অ্যান্ড স্টেট'-এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এলে তিনি চলতি
বছরের (২০২৬) আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে আবার সদস্যপদ নবায়ন করেন। ডিএসএ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত
করেছে যে, ওকাসিও-করতেজ বর্তমানে সংগঠনের একজন পূর্ণ সক্রিয় সদস্য।
সংগঠনটি আরও জানায়, ২০১৮ সালে যখন ওকাসিও-করতেজ
যোগ দেন, তখন বাৎসরিক সদস্য ফি ছিল ৬০ ডলার এবং এটি প্রতি বছর ম্যানুয়ালি নবায়ন করতে
হতো। বর্তমানে এই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে সদস্য ফি মাসিক ৫ থেকে ৫০ ডলার করা হয়েছে
এবং নবায়ন প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটিক) করা হয়েছে।
সাধারণত কোনো ব্যক্তির সদস্যপদের স্ট্যাটাস
নিয়ে ডিএসএ প্রকাশ্যে আলোচনা না করলেও, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র
করে এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। ডিএসএ-এর জাতীয় নেতৃত্ব জানায়, সারা দেশে
তাঁদের সদস্য সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনেও সাফল্য
আসছে। এমন অবস্থায় ডিএসএ-এর অনেক চ্যাপ্টার ও সাধারণ সদস্যরা ওকাসিও-করতেজকে ২০২৮ সালের
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রাইমারিতে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। ফলে তাঁর
সদস্যপদ সংক্রান্ত তথ্য সদস্যদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে এবিসি নিউজ-এর এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক
জোনাথন কার্ল ওকাসিও-করতেজকে ডিএসএ-এর সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, তিনি মূলত
নিউ ইয়র্ক সিটি চ্যাপ্টারের সদস্য, জাতীয় সংগঠনের নয়। তিনি স্থানীয় চ্যাপ্টারকে একটি
ট্রেড ইউনিয়নের স্থানীয় শাখার সাথে তুলনা করেছিলেন।
সদস্যপদ আনুষ্ঠানিকভাবে নবায়িত না থাকলেও
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে ডিএসএ ও ওকাসিও-করতেজের নাম একসাথে উচ্চারিত
হয়েছে। ২০২০ সালে ওকাসিও-করতেজ পুনর্নির্বাচিত হলে ডিএসএ তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিল।
এমনকি ২০২৪ সালের মার্চে টিকটক নিষিদ্ধের বিলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় ওকাসিও-করতেজ ও
সাবেক কংগ্রেস সদস্য কোরি বুশের প্রশংসাও করেছিল সংগঠনটি।
তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন
সংকটকে কেন্দ্র করে ডিএসএ এবং ওকাসিও-করতেজের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। ইসরায়েলের অস্তিত্বের
অধিকার সম্পর্কিত একটি হাউস প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া এবং ইহুদিবিদ্বেষ বিষয়ক এক
আলোচনা সভায় অংশ নেওয়ার কারণে ডিএসএ তার দলীয় এনডোর্সমেন্ট (সমর্থন) প্রত্যাহার করে
নিয়েছিল। ডিএসএ-এর দাবি ছিল, ফিলিস্তিন ইস্যুতে সংগঠনের কঠোর অবস্থানের সাথে ওকাসিও-করতেজের
কয়েকটি পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
সব বিতর্ক কাটিয়ে এবং মতপার্থক্য মিটিয়ে
ওকাসিও-করতেজের এই পুনরায় প্রত্যাবর্তনকে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এবং প্রোগ্রেসিভ
আন্দোলনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডেমোক্রেটিক
পার্টির ভেতরের বামপন্থী ও সোশালিস্ট ব্লক ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাকে মূলধারার
শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করানোর যে পরিকল্পনা করছে, এই সদস্যপদ নবায়ন তার প্রথম
রূপরেখা হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

