পূর্ব জেরুজালেমে
জাতিসংঘ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাজেয়াপ্ত করলো ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৬
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর কালান্দিয়া ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারটি দখল ও বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। পূর্ব জেরুজালেমে সংস্থাটির পরিচালিত এটিই ছিল সর্বশেষ সক্রিয় প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে জাতিসংঘের স্বায়ত্তশাসিত প্রাঙ্গণে এই অভিযানের ঘটনায় কড়া নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ইসরায়েলের
উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার ৫০
জনেরও বেশি সশস্ত্র ইসরায়েলি সেনা ও পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারটিতে জোরপূর্বক ঢুকে অভিযান
চালায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বেন-গভিরকে ইনস্টিটিউটের পরিচালকের
চেয়ারে বসে বিজয়ী ভঙ্গিতে দেখা যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইসরায়েল বা জেরুজালেমে
ইউএনআরডব্লিউএ-এর কোনো জায়গা থাকবে না।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর
কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, তার সরাসরি নির্দেশে কালান্দিয়ার এই ক্যাম্পাউন্ডটি উচ্ছেদ
করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেখানে ইসরায়েলি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং জাতিসংঘের
লোগো ও সইনবোর্ডগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানটি দখল করে
জেরুজালেম পৌরসভার অধীনস্থ মিউনিসিপ্যাল শিক্ষা কমপ্লেক্সে রূপান্তর করার পরিকল্পনা
করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান
দুজ্যরিক এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জাতিসংঘের প্রতিটি প্রাঙ্গণ অনাক্রম্য
ও সব ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত। এই অভিযান অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ এর মাধ্যমে শত
শত তরুণ ফিলিস্তিনির কারিগরি শিক্ষা পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেল। ইউএনআরডব্লিউএ-ও এক বিবৃতিতে
এই অননুমোদিত এবং বলপ্রয়োগমূলক অনুপ্রবেশের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি ঘটনার পরপরই জাতিসংঘ নিরাপত্তা
পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করার ও অবৈধ এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে স্থায়ী আইনি পদক্ষেপ
নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত কালান্দিয়া ট্রেনিং
সেন্টারটি ছিল ফিলিস্তিনে ইউএনআরডব্লিউএ-এর প্রথম বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতি
বছর এখান থেকে প্রায় ৩৪০ জন তরুণ কাঠমিস্ত্রি, অটো-মেকানিক, প্লাম্বিং সহ বিভিন্ন
কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ শেষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতেন। পূর্ব জেরুজালেমের সীমান্তে
অবস্থিত হওয়ায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর তরুণেরাও সহজে এখানে পড়ালেখার
সুযোগ পেতেন।
নেতানিয়াহুর সরকার দাবি করেছে যে, ২০২৩
সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইউএনআরডব্লিউএ-এর কিছু কর্মী সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যার কারণে
সংস্থাটির ক্রিয়াকলাপ ইসরায়েলি ভূখণ্ডে নিষিদ্ধ করতে ২০২৪ সালে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট
(নেসেট) আইন পাস করে। যদিও জাতিসংঘের নিজস্ব তদন্তে কিছু কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হলেও
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইসরায়েলি দাবির পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউএনআরডব্লিউএ-এর ওপর
ইসরায়েলের এই চড়াও হওয়ার মূল লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিজ ভূমিতে ফেরার
অধিকার -এর দাবিকে রাজনৈতিকভাবে মুছে ফেলা। তবে আন্তর্জাতিক মহল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

