যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অবস্থানে পাল্টা হামলা ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩১
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত, জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে এসব হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই পাল্টা হামলা শুরু করে তেহরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, কুয়েত, জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ও অবকাঠামোকে এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে। কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে সেটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন ভূপাতিত করার শব্দ হতে পারে বলে সতর্ক করে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ ও এমকিউ-৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে একটি ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করে, হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে, কয়েকজন মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন এবং সামরিক অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে যায়।
তবে আইআরজিসির এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান। তারা হামলায় কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির কথা অস্বীকার করেছে।
এর আগে জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’-এ মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাক লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবিও করেছিল আইআরজিসি। তাদের দাবি, ওই হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত এবং কয়েকটি স্থাপনা ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এসব পালটা হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দাবি, ওই হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা এবং মার্কিন সেনাদের অবস্থানস্থলগুলো হামলার লক্ষ্য ছিল। একই সময়ে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।
এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের একাধিক এলাকায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহ এলাকায় হামলা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
গত জুলাইয়ের পর রোববার রাতে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি পালটা হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে আরও ‘কঠোর’ আঘাতের হুমকি দেন।
মঙ্গলবারের মার্কিন হামলার পর ইরানের পালটা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান পালটা হামলা চালালে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

