পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্পূর্ণ অবৈধ, ঐকমত্যে ইইউ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪১
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ- ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব সদস্য রাষ্ট্র এ বিষয়ে একমত বলে জানিয়েছেন ইইউর পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি কায়া কাল্লাস।
ব্রিটেন ও আরও ১১টি দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার সমর্থন ঘোষণার পর এ কথা জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কায়া কাল্লাস বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের বসতি সম্প্রসারণ কার্যকর দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবিক সহায়তার সবচেয়ে বড় দাতা হিসেবে ইইউর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে।
বসতিতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে ব্রিটেন, কঠোর জবাবের আহ্বান ইসরায়েলেরবসতিতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে ব্রিটেন, কঠোর জবাবের আহ্বান ইসরায়েলের
কাল্লাস জানান, নিরাপদ ও স্বীকৃত সীমান্তের মধ্যে পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসকারী দুটি রাষ্ট্রের ভিত্তিতে একটি সার্বিক, ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইইউ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সম্প্রতি পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যসহ ১২টি দেশ।
১২ দেশের সমর্থন
যুক্তরাজ্যের এই উদ্যোগের সঙ্গে ফ্রান্স ও কানাডাও বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেনসহ মোট ১২টি দেশ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্যে বিধিনিষেধ আরোপ বা এ ধরনের পদক্ষেপ সমর্থনের কথা জানিয়েছে।
দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের কর্মকাণ্ড দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ এমন বসতিগুলোর সাথে পণ্যের বাণিজ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ বা সমর্থন করার অভিপ্রায় নিশ্চিত করছে।’
মিলিব্যান্ড জানান, যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা শুধু পণ্য আমদানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে নির্মাণ, অবকাঠামো, অর্থায়ন বা আবাসন-সংক্রান্ত সেবা দেওয়া ব্যক্তি ও কোম্পানির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়াও যুক্তরাজ্যে অবৈধ বসতির সম্পত্তি বা জমির বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ করা হবে। নতুন আইন বাস্তবায়নে ৬ থেকে ৯ মাস সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা পুরো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নয়। বরং অধিকৃত অঞ্চলে অবৈধ বসতি ও তার সম্প্রসারণকে লক্ষ্য করেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমারেখার মধ্যে বাণিজ্য অব্যাহত রাখবে যুক্তরাজ্য।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোও বলেছেন, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ, ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা এবং পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির কারণেই ফ্রান্স এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে এটিকে বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের দুই মন্ত্রীও যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ইসরায়েল থেকে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। আর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। সূত্র: আল জাজিরা
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

