ভারতের ভূখণ্ড বাংলাদেশের দখলের দাবি ‘মিথ্যা গল্প’ : বিএসএফ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:০৮
ছবি : সংগৃহীত
গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ মোটরচালিত নৌকা ও এটিভি ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টা টহল দেওয়া শুরু করেছে বলে দাবি করেছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)।
ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের সাথে ৫ কিলোমিটার ভারতীয় জমি দখল করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গণমাধ্যমের এমন দাবিকে অস্বীকার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) এমন প্রতিবেদনকে ‘অমূলক’ এবং ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেছে বিএসএফ।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএসএফ দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘যে এলাকা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা ভারতীয় ভূখণ্ডের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাগদা ব্লকের রাংহাট গ্রাম এলাকা। সেখানে কোদালিয়া নদী বরাবর আন্তর্জাতিক সীমানা (আইবি) রয়েছে এবং ওই নদীর উভয় পাশে রেফারেন্স পিলারের মাধ্যমে সেটি ভালোভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানকার আন্তর্জাতিক সীমানা এবং বিএসএফের ডিউটি প্যাটার্ন কয়েক দশক ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে।’
বিএসএফ আরও জানায়, বাংলাদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনগুলোতে সত্যতা এবং যোগ্যতার অভাব রয়েছে।
বিএসএফ জানায়, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ১৯ ডিসেম্বর থেকে ওই এলাকায় মোটরচালিত নৌকা ও এটিভি ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টা প্যাট্রোলিং শুরু করেছে, এই দাবিও মিথ্যা।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘এই প্রতিবেদনগুলো ‘মনগড়া গল্প’ ছাড়া আর কিছুই নয়। বিএসএফ এবং বিজিবি নদীর নিজ নিজ তীরে তাদের দায়িত্ব পালন করে চলেছে, যা আন্তর্জাতিক সীমানা (আইবি) হিসাবে কাজ করে।’
বিএসএফ জানায়, ভারতের এক ইঞ্চি জমিও প্রতিপক্ষ দখল করেনি, নেবেও না। বিএসএফ এবং বিজিবি উভয়ই 'ভারত-বাংলাদেশ বর্ডার গাইডলাইনস, ১৯৭৫' অনুযায়ী নিজ নিজ এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে আধিপত্য বিস্তার করছে এবং আইবির অখণ্ডতা বজায় রয়েছে।
বিএসএফ আরও জানায়, ‘এই এলাকা কাঁটাতারবিহীন এবং এটি অবৈধ কার্যক্রম যেমন চোরাচালান এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের অনুপ্রবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এমন কার্যক্রম রোধ করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যার ফলে এই অঞ্চলে অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা প্রায় শূন্য হয়ে গেছে।’
বিএসএফ জানায়, ‘মিথ্যা এবং বানোয়াট দাবি শুধু দুই বাহিনীর মধ্যে সৌহার্দ্য নষ্ট করবে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতের দখলে থাকা কোদালিয়া নদীর পাঁচ কিলোমিটার উদ্ধার করে বিজিবি। স্বাধীনতার পর থেকেই কোদলা নদীর বাংলাদেশ সীমান্তের ওই অংশ ভারতের বিএসএফ দখল করে সেখানে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। গত সোমবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ৫৮ বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, কোদালিয়া নদী বাংলাদেশের অভ্যন্তর হতে দক্ষিণ দিকে প্রসারিত হয়ে মহেশপুরের মাটিলা এলাকায় ৪.৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চিহ্নিত করেছে। ১৯৬১ সালে প্রণীত বাংলাদেশ-ভারত (স্টিপ ম্যাপ সিট নম্বর-৫১) মানচিত্র অনুসারে কোদলা নদীর উল্লিখিত ৪.৮ কিলোমিটার নদী সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্য রেখার অভ্যন্তরে অবস্থিত।
বিজ্ঞপ্তি থেকে আরও জানা যায়, সম্প্রতি কোদালিয়া নদীর প্রকৃত মালিকানা-সংক্রান্ত এই বিষয়টি ৫৮ বিজিবির নজরে আসে। এরপর বিজিবি প্রথমে বিভিন্ন নথিপত্র স্থানীয় প্রশাসন ও মানচিত্র থেকে নদীটির প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করে বিএসএফের অবৈধ আধিপত্য বিস্তারের বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। পরে ৫৮ বিজিবির সদস্যরা সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কোদালিয়া নদী নিজেদের আয়ত্তে আনতে সক্ষম হয়। বর্তমানে বিজিবি সদস্যরা প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকার জন্য যন্ত্রচালিত বোট এবং নদীর পাড়ে দ্রুত টহলের জন্য অল টেরেইন ভেহিকেল (এটিভি) বরাদ্দ করা হয়েছে।
এসবি

