সৌদিতে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা, চার অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৫
সৌদি আরবের চারটি অঞ্চলে তীব্র বজ্রপাত, ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। একই সঙ্গে কয়েকটি এলাকায় শিলাবৃষ্টি, শক্তিশালী দমকা হাওয়া এবং ধূলিঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার (১৮ অক্টোবর) সৌদি আরবের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ।
এনসিএমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জিজান, আসির, আল-বাহা ও মক্কা অঞ্চলের কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
বৃষ্টির সঙ্গে শিলাবৃষ্টি ও প্রবল দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব কারণে কোথাও কোথাও ধূলিঝড় ও বালুঝড়ের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। এ ছাড়া জিজান, আসির, আল-বাহা ও মক্কার কিছু অংশ এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় কুয়াশা পড়তে পারে।
এতে সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, প্রতিকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাসের পাশাপাশি সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, দাম্মামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। মক্কায় ৩৯ ডিগ্রি এবং রিয়াদ ও বুরাইদাহতে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকতে পারে।
এ ছাড়া মদিনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি এবং জেদ্দা ও জিজানে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। হায়েলে ৩৩ ডিগ্রি, আরার, সাকাকা ও নাজরানে ৩২ ডিগ্রি এবং তাবুকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে তুলনামূলক শীতল আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আবহায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি এবং আল-বাহায় ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। আর্দ্রতার ক্ষেত্রেও অঞ্চলভেদে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যেতে পারে। আবহা, আল-বাহা ও জিজানে বাতাসের আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে। জেদ্দা ও দাম্মামে তা ৮৫ শতাংশ এবং মক্কায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া তাবুক, আরার ও সাকাকায় আর্দ্রতা ৭০ শতাংশ, মদিনা ও হায়েলে ৫৫ শতাংশ, রিয়াদ ও নাজরানে ৩৫ শতাংশ এবং বুরাইদাহতে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে ভারী বৃষ্টিপাতপ্রবণ এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি এবং কুয়াশাচ্ছন্ন এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

