পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া না করতে বাংলাদেশকে ভারতের আহ্বান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৫, ১৬:৪৪
ভারত এবং বাংলাদেশ একে অপরের প্রতিবেশী দেশ এবং কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে উভয় দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কথা উল্লেখ করে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন, ‘কোনোরকম বৈরিতা প্রদর্শন করলে তা কোনো পক্ষের জন্যই লাভ হবে না।’
সোমবার ‘আর্মি ডে’-র আগে সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সম্প্রতি বলেছেন যে, ভারত তাদের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, আর একইভাবে বাংলাদেশও আমাদের (ভারতের) জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একে অপরের প্রতিবেশী, আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে।
এ সময় তিনি আরও যোগ করেন, বৈরিতা প্রদর্শন করা কোনো পক্ষের স্বার্থের জন্যই ভালো হবে না। ভারত এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল এবং বর্তমানেও তা ঠিকঠাক রয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর, ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের প্রতিবেশী দেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে। যদিও সম্প্রতি যৌথ মহড়া স্থগিত রাখা হয়েছে, সেনাপ্রধান জানান যে পরিস্থিতি উন্নতি হলে শীঘ্রই সেই মহড়া আবার শুরু হবে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো এবং ঠিকঠাক রয়েছে।
তবে ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই মন্তব্যের কিছু সময় পর, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কিছু উত্তেজনা দেখা দেয়। মালদা জেলার বৈষ্ণবনগরের সুকদেবপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএসএফ এবং বিজিবির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এছাড়া, কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের তিন বিঘা সীমান্তেও এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে বিজিবির বাধা উপেক্ষা করে স্থানীয়রা বেড়া স্থাপন করে।
এ পরিস্থিতিতে ভারতের সেনাপ্রধান আবারও বাংলাদেশকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দু’দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখার জন্য কোনো পক্ষকেই অবান্তর বিরোধে জড়ানো উচিৎ হবে না। আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে, এবং ভবিষ্যতে উভয় দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
এভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তার আহ্বান জানিয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধান পরিষ্কার করেছেন যে, তারা সবসময় শান্তিপূর্ণ এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
বিএইচ/

