গণভবনে টিউলিপ সিদ্দিকের প্রচারপত্র, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বন্ধের নোট
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৫, ১৮:২৯
ছবি : সংগৃহীত
গত বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালানোর পর, বিক্ষুব্ধ জনতা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে হামলা ও লুটপাট চালায়। গণভবনের ধুলা-ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দেখা যায় কিছু অবাক করা সামগ্রী, যার মধ্যে একটি ছিল যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের প্রচারপত্র।
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক, যিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ইকোনমিক সেক্রেটারি টু দ্য ট্রেজারি অ্যান্ড সিটি মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হাসিনা সরকারের দুর্নীতি থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
গণভবনে পাওয়া যায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দস্তাবেজ, যার মধ্যে টিউলিপের ধন্যবাদপত্র, ২০২২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশে এক ব্যারিস্টারের গুম হওয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট নিয়ে আইনি পরামর্শের একটি নোটও ছিল। এসব নথি দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি ফ্ল্যাট বিতর্কেও নাম এসেছে টিউলিপের। যুক্তরাজ্যে একাধিক ফ্ল্যাট তিনি বা তার পরিবার হাসিনার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে পাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। বাংলাদেশেও টিউলিপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে। এমন পরিস্থিতিতে তার পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।
এর আগে খালার শাসন থেকে নিজেকে আলাদা করার চেষ্টা করেছেন বলে জানান টিউলিপ সিদ্দিক। ২০১৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তারা কখনোই রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেননি,’ কিন্তু এখন তার বিরুদ্ধে উঠেছে নানা বিতর্ক। বিশেষ করে, গুম হওয়া এক ব্যারিস্টারের বিষয়ে এক ব্রিটিশ সাংবাদিকের প্রশ্নের পর তার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় অনেকেই মনে করছেন তার রাজনৈতিক অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সন্দেহ জাগিয়েছে।
এদিকে, গণভবনে লুটপাটের পর বেশ কিছু সামগ্রী ফেরত আসলেও বিতর্কের মূলে রয়েছে টিউলিপ সিদ্দিকের ভূমিকা। হাসিনার পতনের পর তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ বাড়ছে। যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন জল্পনা সৃষ্টি করছে।
এফএটি/এআরএস

