গাজা-মিশর সীমান্ত থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি শুরু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:৫০
ছবি : সংগৃহীত
গাজা-মিশর সীমান্তে অবস্থিত ফিলাডেলফি করিডোর থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহনী। তারা বহুল প্রত্যাশিত জিম্মি-বন্দী বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জানিয়েছে ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার কেএএন।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেএএন জানিয়েছে, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হতে শুরু করায় গাজা উপত্যকা থেকে ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের প্রস্তুতির জন্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দক্ষিণ কমান্ডে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে বৈঠক ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে কেএএন জানিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই রাফাহ ক্রসিংয়ে ফিলিস্তিনি দিক থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
কেএএন বলেছে, 'ফিলাডেলফি করিডোর (গাজা-মিশর সীমান্ত বরাবর) থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি ইসরায়েলি, মিশরীয় এবং মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামাসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রথম কয়েকদিনের মধ্যেই ফিলাডেলফি করিডোর থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
তারা জানিয়েছে, সেনাবাহিনী মধ্য গাজার নেটজারিম অক্ষে তার অবস্থান এবং অবকাঠামো ধ্বংস করতে এক সপ্তাহ সময় নিতে পারে।
বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকার সীমান্তে একটি বাফার জোন প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ইতোমধ্যে সীমান্তের এক কিলোমিটারেরও বেশি প্রশস্ত এলাকার সমস্ত ভবন ভেঙে ফেলেছে।’
নেটজারিম এবং ফিলাডেলফি অক্ষ এবং রাফাহ ক্রসিংয়ের কথা উল্লেখ করা সত্ত্বেও, কেএএন উত্তর গাজা প্রদেশ থেকে প্রত্যাহারের জন্য সেনাবাহিনীর প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা করেনি।
এর আগে, মঙ্গলবার সকালে কাতার জানায়, গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনা তাদের 'চূড়ান্ত অবস্থানে' রয়েছে এবং চুক্তির ঘোষণা যে কোনো সময়ে আসতে পারে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'হামাস ও ইসরায়েল উভয়ের কাছেই একটি খসড়া চুক্তি হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দু'পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিরোধপূর্ণ ইস্যুতে প্রধান বাধাগুলো সমাধান করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসও নিশ্চিত করেছে যে, গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং বন্দী বিনিময় চুক্তি ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে। হামাসের হামলার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৪৬ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। যার মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিল অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো সত্ত্বেও ইসরায়েল তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও করা হয়েছে।
এসবি

